বিজ্ঞাপন
রদ্রির হাতে ট্রফি দিয়ে মঞ্চে ট্রাম্পের দেরি, নেপথ্যে যে কারণ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
বিজ্ঞাপন
রোববার রাতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু রদ্রি, ইয়ামালদের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সময়ও দীর্ঘক্ষণ মঞ্চে ছিলেন ট্রাম্প। চ্যাম্পিয়নদের পাশাপাশি স্পটলাইটের একটি বড় অংশ নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর আগে ফিফা সভাপতির সঙ্গে যখন ট্রাম্প মাঠে প্রবেশ করছিলেন, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক দুয়ো ধ্বনি শুনতে হয় তাকে। অবশ্য এসব উপেক্ষা করেই টুর্নামেন্টের সমাপনী আয়োজনের পুরোটা সময় মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। এই বিশ্বকাপকে তিনি ইতোমধ্যেই ‘সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রীড়া ইভেন্ট’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
স্পেন দল যখন উল্লাসের সঙ্গে ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরছিল, তখন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৮০ বছর বয়সি এ মার্কিন নেতা সেখানে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এমনকি স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সামনেই তিনি তার চিরচেনা সিগনেচার ‘ট্রাম্প ড্যান্স’র একটি সংক্ষিপ্ত রূপ প্রদর্শন করেন।
স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে ট্রাম্প তার নিজস্ব ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে চড়ে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান। ম্যাচ চলাকালীন তিনি ইনফান্তিনো এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পাশে বসেন এবং মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় দাঁড়িয়ে স্যালুট জানান।
খেলা শুরুর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, সুপারস্টার লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে কিছুটা এগিয়ে রাখবেন। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, আর্জেন্টিনার হারে তিনি ‘দুঃখিত নন’। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব স্পেনই ভালো খেলেছে, সত্যিই।’
কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ
ফাইনাল ম্যাচটি ট্রাম্পের জন্য কিছুটা কূটনৈতিক আলোচনারও সুযোগ করে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এ ধোঁয়ার কারণে এক পর্যায়ে ফাইনাল ম্যাচটি ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ‘ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘তবে হয়তো তাদের আমাদের কিছু ক্ষতিপূরণ বা এই জাতীয় কিছু দেওয়া উচিত, অথবা আমাদের কিছু শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করা উচিত।’
এছাড়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করা এবং ন্যাটোর খরচের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করায় মাদ্রিদের তীব্র সমালোচনা করলেও, সানচেজের সঙ্গে কথোপকথনে ‘কোনো উত্তেজনা ছিল না’ বলে দাবি করেন তিনি।
‘এটি ছিল অসাধারণ’
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন ট্রাম্প। জনাকীর্ণ পাবলিক ইভেন্ট পছন্দ করা ৮০ বছর বয়সি এ নেতার জন্য এটিই ছিল গ্যালারিতে বসে সরাসরি দেখা প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে টুর্নামেন্ট জুড়ে এটিই তার প্রথম হস্তক্ষেপ ছিল না।
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড যাতে ফিফা স্থগিত করে- তা নিয়ে ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন ট্রাম্প। খেলাধুলার নিরপেক্ষতা ও ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও, ২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সেরা বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এটি সম্ভবত পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রীড়া ইভেন্ট। এটি সত্যিই অসাধারণ ছিল।’
‘সকারের দেশ’
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই খেলার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘দেখা গেল আমরা আসলে সকারেরই (ফুটবল) দেশ এবং আমার মনে হয় এটি বজায় থাকবে।’ তিনি আরও জানান যে তার ২০ বছর বয়সি ছেলে ব্যারন ফুটবলের মস্ত বড় ভক্ত।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বিশ্বকাপের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে জড়িয়ে নিয়েছেন। সেখানে একাধিকবার ইনফান্তিনোকে আতিথেয়তাও দিয়েছেন তিনি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদেশি ফুটবল ভক্তকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।