Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, আটকা ৬ শতাধিক পর্যটক

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম

সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ, আটকা ৬ শতাধিক পর্যটক

বিজ্ঞাপন

প্রবল বর্ষণে সড়ক ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে ছয় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী; কিন্তু এদিন রাতে প্রবল বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশ ডুবে যাওয়ায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা আটকা পড়েন।

তবে পরবর্তীতে যে কোনো সময়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে দীঘিনালা-বাঘাইহাট-সাজেক সড়কের অন্তত চারটি স্থানে পাহাড় থেকে মাটি ধসে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। ফলে খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ⁠সাজেকভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সড়ক যোগাযোগ সচল না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। টানা ও ভারি বর্ষণের ফলে এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয়দের বেশকিছু পরিবার।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, প্রবল বর্ষণের কারণে সাজেকের মাচালং সড়কে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে আটকাপড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়ি সদরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। আটকাপড়া পর্যটকদের কাছ থেকে আপাতত রুম ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণদেব বর্মণ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আকস্মিক আটকে পড়া পর্যটকদের আর্থিক চাপ কমাতে কটেজ ও রিসোর্টের রুম ভাড়ার ওপর ৫০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে সমিতি।

এছাড়া আটকেপড়া পর্যটকদের যাতে খাবার, পানি বা কোনো ধরনের মৌলিক সংকটে পড়তে না হয়, সেই বিষয়ে রিসোর্ট মালিকরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। পানি নেমে গিয়ে সড়ক সচল হওয়ামাত্রই পর্যটকদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মার্জান বলেন, পাহাড়ধস ও বন্যার কারণে উপজেলার বাঘাইহাট ও মাচালংবাজারে সড়ক ডুবে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। সড়কের পানি নেমে গেলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকেপড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেকের পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক ভ্রমণে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস এবং রাঙামাটি জেলায় চলমান টানা ভারিবর্ষণের ফলে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকভ্যালি ভ্রমণে বিরত থাকতে এবং সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এ সময়ে সাজেকভ্যালির সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার