Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

শেষ মুহূর্তে বাতিল ক্রোয়েশিয়ার গোল, যে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

শেষ মুহূর্তে বাতিল ক্রোয়েশিয়ার গোল, যে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। তখনই যেন ফিরে এসেছিল ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন। জসকো ভার্দিওলের জালে বল জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লুকা মদ্রিচদের উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো দল। মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচকে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে তারা। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)–এর পরামর্শে রেফারি গোলটি বাতিল করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দিলে মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। এই সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার পথচলার ইতি ঘটে।

গোল বাতিল হওয়ার পরপরই মাঠে নেমে আসে হতাশা। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলাররা রেফারিকে ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ জানান। গ্যালারিতেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সমর্থক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে মাঠের দিকে পানির বোতল ও ক্যান ছুড়ে মারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন ছিল, সহকারী রেফারি যখন অফসাইডের পতাকা তোলেননি, তখন ভিএআর কীভাবে গোল বাতিল করল?

ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আক্রমণের শুরুতে পর্তুগালের রেনাতো ভেগার মাথায় লেগে বল যায় ইভান পেরিসিচের কাছে। পেরিসিচ এরপর বল বাড়ান মারিও পাসালিচের উদ্দেশে। তবে বলটি পাসালিচের কাছে পৌঁছানোর আগে ক্রোয়েশিয়ার আরেক খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচের পায়ে অতি সূক্ষ্ম একটি স্পর্শ লাগে। সেই স্পর্শ এতটাই ক্ষীণ ছিল যে খালি চোখে তো দূরের কথা, টেলিভিশনের রিপ্লেতেও সেটি স্পষ্ট বোঝা যায়নি।

কিন্তু ফুটবলের অফসাইড আইনে সেই স্পর্শই পুরো পরিস্থিতি বদলে দেয়। কারণ মাতানোভিচ বল স্পর্শ করার মুহূর্তেই পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। এরপর পাসালিচ বল বাড়ান ভার্দিওলের দিকে এবং সেখান থেকেই গোলটি আসে। অর্থাৎ আক্রমণের ধারাবাহিকতায় অফসাইড সংঘটিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গোলটি বৈধ হিসেবে গণ্য করা যায়নি।

ফিফা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর প্রযুক্তি। বলের মধ্যে স্থাপন করা বিশেষ চিপ প্রতি সেকেন্ডে বহুবার বলের গতিবিধি ও স্পর্শের তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে খেলোয়াড়ের অত্যন্ত সূক্ষ্ম স্পর্শও প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা সাধারণ ক্যামেরা বা খালি চোখে ধরা পড়ে না।

এই তথ্য পরে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়, মাতানোভিচের স্পর্শের সময় পাসালিচ অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। সেই কারণেই ভিএআর রেফারিকে গোল বাতিলের পরামর্শ দেয় এবং মাঠের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।

বিশ্বকাপে ভিএআর প্রযুক্তি নিয়ে এর আগেও একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ফিফার দাবি, এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানবচোখের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতেই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়া এমন একটি সিদ্ধান্ত আরও পরিষ্কারভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা উচিত ছিল।

শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির রায়ে ক্রোয়েশিয়ার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়। শেষ মুহূর্তের সেই গোল যদি বৈধ হতো, তাহলে ম্যাচের ফল এবং বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার ভবিষ্যৎ দুটোই ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু ফুটবলের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুগে কয়েক মিলিমিটার কিংবা একটিমাত্র অদৃশ্য স্পর্শও যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, পর্তুগালের বিপক্ষে এই ম্যাচটি তারই আরেকটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকল।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার