বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে যে ১০ রেকর্ড দেখল ফুটবল বিশ্ব
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার দাপট চলছেই। আজ জর্ডানের বিপক্ষেও বড় জয়ের স্বাদ পেয়েছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচেও লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে আরেকটি স্মরণীয় দিন কাটাল আর্জেন্টিনা। দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি একের পর এক ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির গোলে ভর করে আর্জেন্টিনা নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছে, আর পরিসংখ্যান বলছে এটি ছিল রেকর্ডের বন্যায় ভেসে যাওয়া এক ম্যাচ।
এই ম্যাচে গোল করে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তি গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলার এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৯ এ নিয়ে গেছেন তিনি, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আরও এগিয়ে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ছয় গোল করে মেসি আরেকটি বিশেষ তালিকায় নাম তুলেছেন। বিশ্বকাপের এক আসরের গ্রুপপর্বে ছয় গোল করা মাত্র পঞ্চম ফুটবলার তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার ওলেগ সেলেঙ্কোর পর এই কীর্তি গড়া প্রথম খেলোয়াড়ও মেসি।
ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকেও নিজের অসাধারণ দক্ষতার ছাপ রেখেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে দুটি গোল করা ষষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়ে। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভেলিনোকে ছাড়িয়ে গত ছয় দশকে বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে সর্বাধিক গোলের রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন মেসি।
মেসির পাশাপাশি দল হিসেবেও ইতিহাস গড়েছে আর্জেন্টিনা। গত ৬০ বছরে একটি বিশ্বকাপ ম্যাচে একাধিক সরাসরি ফ্রি-কিক গোল করা মাত্র চতুর্থ দল তারা। এর আগে ১৯৬৬ সালে ব্রাজিল, ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়া এবং ২০১০ সালে জাপান এই কীর্তি দেখিয়েছিল।
গ্রুপপর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে আর্জেন্টিনা নিজেদের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বকাপে এটি তাদের পঞ্চমবারের মতো প্রথম তিন ম্যাচ জয়ের ঘটনা। এর আগে ১৯৩০, ১৯৯৮, ২০১০ ও ২০১৪ সালে এমন সূচনা করেছিল দলটি। তবে আগের চারবারের কোনোবারই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা।
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দলের অপরাজিত যাত্রাতেও। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপে টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০০২ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে গড়া টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডের পর এটিই তাদের দীর্ঘতম অপরাজিত ধারা।
আর্জেন্টিনার আরেক গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজও অবশেষে স্বস্তির দেখা পেয়েছেন। বিশ্বকাপে নিজের নবম ম্যাচে এবং ১৭তম শট নেয়ার পর প্রথম গোল করেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটি তার ৩৮তম গোল, যা তাকে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে তুলে দিয়েছে।
মাঝমাঠে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ১৫৪টি সফল পাস সম্পন্ন করেছেন। গত ৬০ বছরে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের জন্য এটি সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড। শুধু তাই নয়, একই সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপের যেকোনো খেলোয়াড়ের হিসাবেও এটি ষষ্ঠ সর্বোচ্চ সফল পাসসংখ্যা।
সব মিলিয়ে এটি ছিল মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য রেকর্ডে মোড়ানো এক রাত। ব্যক্তিগত অর্জন, দলীয় সাফল্য এবং ইতিহাসের পাতায় নতুন নতুন মাইলফলক সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির জানান দিল আলবিসেলেস্তেরা। এখন দেখার বিষয়, এই দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখে তারা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত শিরোপার নাগাল পায় কি না।