Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

‘আমাদের না চাইলে বলে দিন’, ক্ষুব্ধ ইরান অধিনায়কের ফিফাকে প্রশ্ন

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

‘আমাদের না চাইলে বলে দিন’, ক্ষুব্ধ ইরান অধিনায়কের ফিফাকে প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন

মাঠে আক্ষেপ ছিল পেনাল্টি মিস, ক্রসবার আর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া গোল নিয়ে। মাঠের বাইরে ক্ষোভ আরও বড়। মিসরের সঙ্গে ১-১ ড্রয়ের পর ইরান অধিনায়ক মেহদি তারেমি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, টুর্নামেন্টে ইরানের ভ্রমণ-ব্যবস্থা ন্যায্য নয়। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে যেন এই বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হচ্ছে না।

সিয়াটলে গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে মিসরের সঙ্গে ড্র করে ইরান। এই ফল তাদের সরাসরি শেষ ৩২ নিশ্চিত করতে পারেনি। ৩ পয়েন্ট নিয়ে এখন সেরা তৃতীয় দলের হিসাবের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে আমির ঘালেনোয়ির দলকে। ম্যাচে তারেমি নিজেও বড় আক্ষেপের কেন্দ্রে ছিলেন। শুরুতে পেনাল্টি মিস করেন, শেষ দিকে তার হেড ক্রসবারে লাগে। যোগ করা সময়ে শোজা খলিলজাদেহর গোল ভিডিও সহকারী রেফারির পরীক্ষায় অফসাইডে বাতিল হলে ইরানের জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায়।

ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সামনে তারেমির কথায় ফুটে ওঠে হতাশা ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, ‘ফিফার এখানে সব সমস্যা সমাধান করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুরু থেকেই তারা সেটি করতে পারেনি।’

ইরানের দলকে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলতে হলেও তাদের ঘাঁটি রাখা হয়েছে মেক্সিকোর তিহুয়ানায়। ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে দলকে বারবার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পরে সিয়াটলের ম্যাচের আগে ইরানকে এক দিনের বদলে দুই দিন আগে ঢোকার অনুমতি দেয়। কিন্তু তারেমির মতে, পেশাদার টুর্নামেন্টে এমন ব্যবস্থা ঠিক নয়।

তারেমি বলেন, ‘কীভাবে সম্ভব, আমাদের সব সময় তিহুয়ানায় যেতে হবে? আমরা মেক্সিকোর মানুষকে ভালোবাসি। আমরা তিহুয়ানাকে ভালোবাসি। তারা খুব ভালো, খুব বিনয়ী মানুষ। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে, পেশাদার প্রতিযোগিতায় এটা ঠিক নয়।’

তারেমির সবচেয়ে কড়া মন্তব্য আসে ইরানকে ঘিরে সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কে আমাদের সাহায্য করতে চায়? কে? যদি তারা চায় আমরা বেরিয়ে যাই, ঠিক আছে, আমরা বেরিয়ে যাই। কিন্তু এটা ন্যায্য নয়।’

তারেমি জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন। ইরান অধিনায়কের ভাষায়, ‘তিনি বলেছিলেন, এটা শুধু শুরু। কিন্তু গ্রুপ পর্ব তো কালই শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের ভ্রমণ-ব্যবস্থাপনার লোকজন এখানে নেই।’

এই ম্যাচের আবহ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ছিল। গ্যালারিতে কিছু সমর্থক বিপ্লব-পূর্ব ইরানি পতাকা নেড়েছেন, জাতীয় সংগীতের সময় দুয়োও শোনা গেছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলা এবং যুদ্ধবিরতি ভাঙা নিয়ে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের খবর আসে। এমন উত্তেজনার মধ্যে মাঠে নামতে হয়েছে ইরানকে।

ফিফা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরানের অভিযোগ শুধু তারেমির নয়। কোচ আমির ঘালেনোয়িও ভ্রমণ বিধিনিষেধ ও প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এসব বাধা দলের প্রস্তুতি, পুনরুদ্ধার এবং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

মাঠের হিসাবেও ইরানের জন্য রাতটি ছিল কঠিন। মিসরকে হারাতে পারলে সরাসরি শেষ ৩২-এর দরজা খুলে যেত। কিন্তু মাহমুদ সাবেরের দ্রুত গোল, রামিন রেজায়েয়ানের সমতা, তারেমির পেনাল্টি মিস, ক্রসবারে বল লাগা এবং শেষ মুহূর্তে বাতিল গোল মিলিয়ে তারা শুধু ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে। এখন তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপের ফলের জন্য।

ইরানের গল্প তাই শুধু ফুটবলের নয়। মাঠে তারা অপরাজিত থেকেও অনিশ্চয়তায়। মাঠের বাইরে অধিনায়ক প্রশ্ন তুলছেন আয়োজন, ভ্রমণ, সমতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রভাব নিয়ে। বিশ্বকাপের স্লোগান যেখানে ফুটবলকে এক করার কথা বলে, সেখানে ইরানের অভিজ্ঞতা সেই বার্তাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার