Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

আক্রমণের ঝড় বনাম মাঝমাঠের লড়াই: এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স কতটা এগিয়ে?

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

আক্রমণের ঝড় বনাম মাঝমাঠের লড়াই: এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স কতটা এগিয়ে?

বিজ্ঞাপন

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্সকে ধরা হচ্ছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ওসমান দেম্বেলে, কিলিয়ান এমবাপে, দেজিরে দুয়ে, মাইকেল ওলিসের মতো তারকারা যখন একটি দলের আক্রমণভাগে খেলেন, সেটা দেখতে অন্য কোনো একটি দেশের আক্রমণের চেয়ে বরং ফিফা, ই-ফুটবল কিংবা অন্য কোনো ফুটবল গেমের কোনো ড্রিম ইলেভেনের লাইন আপ বলেই বেশি মনে হয়। তবে ফ্রান্সের এই লাইন আপ কল্পনা নয়, বাস্তব।

প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে তারা ৩-১ গোলে হারিয়েছে, যা তাদের শক্তিমত্তার কথাই জানান দেয়। বিশেষ করে ফ্রান্সের গতিময় ফুটবল ছিল চোখ ধাঁধানো।

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অংশগ্রহণ বেশ পুরনো হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে তাদের লেগেছে বেশ লম্বা সময়। ১৯৩০ সালে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্স অংশ নিয়েছিলো, যেখানে লুসিয়েন লরেন্ত বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম গোল করার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

তবে বিশ্বফুটবলে পরাশক্তি হিসেবে ফ্রান্সের উত্থান আরও পরে। মিশেল প্লাতিনি, জিনেদিন জিদান, থিয়েরি অঁরির পর বর্তমানে ফ্রান্স ফুটবল দলও যেন তারকায় ঠাসা। কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল ওলিসে, ওসমান দেম্বেলে- কাকে রেখে কার নাম বলবেন?

ফ্রান্স সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ জেতে ১৯৯৮ সালে, যেখানে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের মূল নায়ক ছিলেন জিনেদিন জিদান। ওই আসরের ফাইনালে তারকায় ঠাসা ব্রাজিলকে হারিয়ে ফ্রান্সকে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছিলেন জিদান।

ব্রাজিলের ওই বিশ্বকাপ দলে ছিলেন কাফু, রবার্তো কার্লোস, বেবেতো, রিভালদো এবং রোনালদো নাজারিওর মতো তারকারা। ফাইনালে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারায় ফ্রান্স, যেখানে জিদানই করেছিলেন দুটি গোল।

এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে আবারও এই জিদানই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। তবে বিতর্কিত সেই ফাইনালে খেলার অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ১১০তম মিনিটে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জিদান তাকে মাথা দিয়ে গুঁতো মেরে বসেন। যেটাকে বিখ্যাত জিদানের হেড বাট- বলা হয়।

এতে করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে এবং পরে টাইব্রেকারে ইতালি জিতে নেয় বিশ্বকাপ। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ে ফরাসিরা। তবে ২০১৮ বিশ্বকাপে দিদিয়ের দেশমের প্রশিক্ষনে এবং কিলিয়ান এমবাপের পায়ের জাদুতে আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ফ্রান্স।

মাত্র ১৯ বছর বয়সী এমবাপে ওই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে গোল করেন ৪টি। পাশাপাশি ওই আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপে এমবাপের সাথে সমানতালে ভালো খেলেছিলেন আন্তোনিও গ্রিজম্যান এবং অলিভিয়ের জিরু।

এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে সেই দিদিয়ের দেশমের অধীনেই তারকায় ঠাসা ফ্রান্স আবারও ফাইনালে পৌঁছায়; কিন্তু লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হতে হয় তাদের।

ফ্রান্সের এবারের বিশ্বকাপ দলেও রয়েছেন একাধিক তারকা ফুটবলার। যথারীতি তাদের ডাগআউটে আবারও দেখা যাচ্ছে সেই দিদিয়ের দেশমকেই। ডিফেন্সকে শক্ত রেখে শৈল্পিক ফুটবলের চেয়ে জেতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে- এভাবেই সাধারণত দল সাজান ফ্রান্সের কোচ দেশম। ফ্রান্স দলে একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি থাকলেও ড্রেসিং রুমকে যথেষ্ট পাকা হাতে সামলাতে সিদ্ধহস্ত এই কোচ।

সাধারণত ৪-৩-৩ কিংবা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে ফ্রান্সকে মাঠে নামতে দেখা যায়, যেখানে গত দুই বিশ্বকাপ আসরে ফ্রান্সের গোলবারের নিচে হুগো লরিসকে দেখা গেলেও এবারের বিশ্বকাপে গোলবার সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন মাইক মাইগনান। চলতি মৌসুমে সিরিএর ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলা এই গোলরক্ষক লিগে ৩৭ ম্যাচ খেলে রেখেছিলেন ১৩টি ক্লিনশিট। তার সতীর্থ হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন লিগ ওয়ানের ক্লাব লেন্সের গোলরক্ষক রবিন রিসার এবং স্টেড রেনেঁর গোলরক্ষক ব্রাইস সাম্বা।

ডিফেন্সের দিকে তাকালে ফ্রান্সের স্কোয়াডে বেশ শক্তপোক্ত লাইন আপ দেখা যায়। শুরুর একাদশে মোটামুটি নিশ্চিতভাবেই দেখা যাচ্ছে আর্সেনালের সেন্টার ব্যাক উইলিয়াম সালিবা এবং বায়ার্ন মিউনিখের দায়ত উপামেকানোকে। তাদের ব্যাকআপ হিসেবে দলে রয়েছেন সদ্য লিভারপুল থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া ইব্রাহিমা কৌনাতে এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্সে ল্যাক্রোইক্স।

রাইট ব্যাকে শুরুর একাদশে থাকছেন বার্সেলোনার হুলেস কুন্দে এবং তার ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন চেলসির মালো গাস্তো। লেফট ব্যাকে শুরুর একাদশে থাকছেন থিও হার্নান্দেজ এবং ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছেন তারই বড় ভাই লুকাস হার্নান্দেজ এবং এস্টন ভিলার লুকাস ডিগনে।

পিএসজির ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ আবার লেফট ব্যাকের পাশাপাশি সেন্টার ব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন, যা ফ্রান্সের স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ায়।
ডিফেন্সে ফ্রান্স অনেক শক্তিশালী হলেও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে গত দুই বিশ্বকাপের তুলনায় এবার ফ্রান্স একটু দুর্বলই বলা চলে। ডাবল পিভটে রিয়াল মাদ্রিদের অরেলিয়েন চুয়ামেনির সাথে জুটি বাঁধতে দেখা যাচ্ছে এসি মিলানের আদ্রিয়েন র‍্যাবিওকে।

একেবারে খারাপ জুটি বলার সুযোগ না থাকলেও ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মাঝমাঠে পল পগবা, ব্লেইসে মাতুইদি, এনগোলা কন্তেরা প্রত্যেকেই নিজেদের সেরা ছন্দে ছিলেন। এবারের ফ্রান্স মিডফিল্ডে ভুগতে চলেছে। সেই আভাস তারা প্রথম ম্যাচেই দিয়েছে। সেনেগালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বলতে গেলে সেভাবে মাঝমাঠে সুবিধাই করতে পারেনি ফ্রান্স, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ ফিরে পায় তারা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার