বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ৯ মিনিট। ডালাস স্টেডিয়ামের গ্যালারিজুড়ে এক লহমায় নেমে এল পিনপতন নীরবতা। পেনাল্টি স্পট থেকে নেওয়া লিওনেল মেসির শটটি যখন পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেল, তখন অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থকই হয়তো নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তবে ফুটবল ঈশ্বর যার জন্য রাজকীয় এক মঞ্চ আগে থেকেই সাজিয়ে রেখেছেন, তাকে কি আর একটা পেনাল্টি মিসের বৃত্তে আটকে রাখা যায়?
৩৮তম মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো নিঁখুত পাস বুক দিয়ে নামিয়ে বাঁ পায়ের এক জাদুকরী ভলিতে অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারকে পরাস্ত করলেন। বল যখন জালের বাঁ কোণায় আশ্রয় নিল, তখন শুধু ডালাস স্টেডিয়ামই নয়, যেন কেঁপে উঠল গোটা ফুটবল বিশ্ব। জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে ১৭টি গোল নিয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান লিওনেল মেসি।
তবে তাতেই যেন খুশি ছিলেন না এ ফুটবল জাদুকর, ম্যাচের ৯৪ মিনিটে অস্ট্রিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন আবারও মেসি, এর ফলে ১৮টি গোল নিয়ে এককভাবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি।
আর মাত্র দুই দিন পরেই ৩৯ বছরে পা দেবেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। এ বয়সেও মাঠের বুকে তাঁর যে ক্ষুধা, তা যেন যে কোনো তরুণ তুর্কিকেও হার মানায়। উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ক্লোসাকে ছুঁয়েছিলেন, আর আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এ কিংবদন্তি ঐতিহাসিক গোলটি দিয়ে ক্লোসাকে পাকাপাকিভাবে টপকে গেলেন তিনি। আর নারী-পুরুষ মিলিয়ে তার সামনে ছিল কেবল ব্রাজিলের নারী ফুটবল কিংবদন্তি মার্তা (১৮ গোল)। সেটাও ম্যাচের শেষে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি।
দুই দশকের এক মহাকাব্য। ২০০৬ সালের জুনে মাত্র ১৮ বছর বয়সে সার্বিয়া ও মন্টিনিগ্রোর বিপক্ষে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের জুনে এসে তা পেল পূর্ণতা। মাঝে ২০১০ বিশ্বকাপ বাদে প্রতিটি আসরেই জাল চিনেছেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করার পথে করেছিলেন ৭ গোল, আর এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে মাত্র দুই ম্যাচেই করে ফেললেন ৪ গোল।
সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে মোট ১২টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে এই ১৮টি গোল করেছেন ফুটবল জাদুকর মেসি।
রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে নেমে পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে করেন এই ৩ গোল। ২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি গোল। একই বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচ সৌদি আরবের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তবে সে ম্যাচে একটি গোল করেছিলেন লিওনেল মেসি।
নকআউট পর্বে মেসির ৫ গোল। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে বিপক্ষে জোড়া গোল। শেষ ১৬তে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে এক গোল। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি গোল। সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার জালেও একবার বল পাঠান।