বিজ্ঞাপন
যে ৬ কারণে এবারই বিশ্বকাপ জিততে পারে ব্রাজিল
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে ব্রাজিল। এটি নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা থাকলেও বাস্তবতা হলো, টুর্নামেন্ট এখনো অনেক বাকি। ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা, যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেখছে দলটি।
অনেকটা টালমাটাল সময় পার করে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। দুর্বল বাছাইপর্ব, কোপা আমেরিকা থেকে দ্রুত বিদায়, একাধিক কোচ পরিবর্তন—সব মিলিয়ে দলটির ওপর আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে বিশ্বকাপ এমন এক মঞ্চ, যেখানে অতীতের ব্যর্থতা নতুন করে লিখে ফেলা যায়।
২৪ বছরের শিরোপা খরা :
প্রথম কারণ হলো ব্রাজিলের দীর্ঘ শিরোপা খরা। ব্রাজিল কখনোই ২৪ বছরের বেশি সময় বিশ্বকাপ না জিতে থাকেনি। তাদের সর্বশেষ শিরোপা আসে ২০০২ সালে। এর আগে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০ ও ১৯৯৪ সালে তারা শিরোপা জেতে। ২০২৬ সালে ব্যর্থ হলে এই খরা ২৮ বছরে পৌঁছে যাবে, যা ইতিহাসের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ তৈরি করবে।
বিশ্বকাপের ভেন্যুর কাকতালীয় মিল :
দ্বিতীয় কারণ হলো বিশ্বকাপের ভেন্যু। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে ব্রাজিল তাদের চতুর্থ শিরোপা জেতে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং ব্রাজিল তাদের সব ম্যাচ, এমনকি সম্ভাব্য ফাইনালও সেখানে খেলবে। ৩২ বছর পর একই মাটিতে আরেকটি শিরোপার গল্প লেখা হতে পারে।
কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতা :
চতুর্থ কারণ হলো কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পাঁচবার শিরোপা জেতা এই কোচ নকআউট টুর্নামেন্টে বিশেষভাবে সফল। তিনি ইউরোপের পাঁচটি শীর্ষ লিগও জিতেছেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও ক্যাসিমিরোর মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার আগের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা দল পরিচালনায় বড় সুবিধা দেবে।
প্রজন্মের চমৎকার মিশ্রণ :
তৃতীয় কারণ হলো দলে প্রজন্মের ভারসাম্য। কোচ কার্লো আনচেলত্তির স্কোয়াডে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যেমন নেইমার, ক্যাসিমিরো, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রো আছেন, তেমনি অ্যালিসন, মারকিনিওস, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনহার মতো প্রতিষ্ঠিত তারকারাও আছেন। পাশাপাশি কুনহা, এন্ড্রিক, রায়ান ও ইগর থিয়াগোর মতো তরুণরাও রয়েছেন। এই তিন প্রজন্মের সমন্বয় দলকে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে।
ফেভারিট চাপের বাইরে থাকা :
পঞ্চম কারণ হলো তুলনামূলক কম চাপ। এবার ব্রাজিলকে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে না। অতীতে ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তারা প্রবল ফেভারিট ছিল এবং চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে তুলনামূলক দূর্বল দল নিয়েই তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারও একই পরিস্থিতি তাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
২০০২ সালের সঙ্গে কাকতালীয় মিল :
ষষ্ঠ কারণ হলো ২০০২ সালের সঙ্গে নানা কাকতালীয় মিল। তখন রোনাল্ডো ইনজুরি থেকে ফিরে বিশ্বকাপে খেলেছিলেন, এবার নেইমারও ইনজুরি কাটিয়ে ফিরছেন। ২০০২ সালে খারাপ বাছাইপর্ব ও কোপা আমেরিকা ব্যর্থতা ছিল, এবারও একই চিত্র দেখা গেছে। দুই সময়েই একাধিক কোচ পরিবর্তন হয়েছে এবং এবারও চারজন কোচ দলের দায়িত্বে ছিলেন। এমনকি দুই বিশ্বকাপেই ব্রাজিল গ্রুপ ‘সি’ থেকে যাত্রা শুরু করছে।