Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘরেই ‘বিরোধ’

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম

বিশ্বকাপ নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ঘরেই ‘বিরোধ’

বিজ্ঞাপন

সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে নানা ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। এ দেশের মানুষ এক কথায় বিশ্বকাপের সময় বিভক্ত হয়ে যায় দুইভাগে। এক ভাগ সমর্থন করে ব্রাজিলের, অন্যভাগ আর্জেন্টিনার। এর বাইরে কয়েকটি দলের কিছু সমর্থক দেখা গেলেও তা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের তুলনায় নস্যি।

সমর্থন নিয়ে অফিস-আদালতে বিভক্তি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি। ভাইয়ে ভাইয়ে বিভক্তি যেমন থাকে, তেমন থাকে দম্পতির মধ্যেও। এই যেমন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক তারকা ফুটবলার মো. আমিনুল হকের ঘরে আছে সেই রকম বিভক্তি।

বুধবার দুপুরে আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেছেন মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব লিমিটেড আয়োজিত ‘মোহামেডান-বিশ্বকাপ আড্ডা’ লাইভ টকশো অনুষ্ঠান। ক্লাবের অডিটরিয়ামে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন বিশ্বকাপ নিয়ে নিজ ঘরের বিভক্তির কথা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক ব্রাজিলের সমর্থক, তার সহধর্মিণী আর্জেন্টিনার।

মঙ্গলবার সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বাসায় ফিরেন, তখন তার স্ত্রীর কাছে প্রথম শুনতে হয়েছে ব্রাজিল নিয়ে কথা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বাসায় যাওয়ার পর আমরা স্ত্রী বলছিলেন-এবার ব্রাজিলের কিন্তু খাওয়া নাই। বুঝতেই পারছেন সে আর্জেন্টিনার সমর্থক। শুধু আমাকেই বলেনি। আমার মেয়েকেও শেখাচ্ছে যে, তোমার বাবাকে বলো ব্রাজিল শুধু মুখেই বলবে, কাজ হবে না। এই যে বাকযুদ্ধ এটাই হলো বাংলাদেশের ফুটবলের আসল ক্রেইজ। এটাই হলো বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা। বিশ্বকাপে নিয়ে প্রতিটি ঘরেই বাকযুদ্ধ চলছে। আমার ঘরও ব্যতিক্রম নয়।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হয়তো বিশ্বফুটবলে নিজেদের সেভাবে পৌঁছাতে পারিনি। তবে বাংলাদেশের মতো ফুটবল পাগল সাপোর্টার আমার মনে হয় পৃথিবীর কোনো দেশে নেই। প্রত্যেকটি ঘরেঘরে, বাসার ছাদে যেভাবে পতাকা ওড়ানো শুরু হয়ে গেছে, সেখানে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি-যে যে দলেরই সাপোর্টার হোক না কেন; বাংলাদেশের মতো এভাবে পতাকা কোনো দেশে ওড়ানো হয় না।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ এখনো ভালো পর্যায়ে না পৌঁছালেও এই দেশে খেলাটি নিয়ে কত উম্মাদনা আছে তা বলতে গিয়ে সাবেক এই ফুটবলার বলছিলেন, ‌‘আমরা ফুটবলে সেভাবে এখনো প্রস্তুত হতে পারিনি। তবে বাংলাদেশে ফুটবল-পাগল দর্শক রয়েছে। যাদের ধারণ করে আমরা যদি মনে করি শূন্য থেকেও শুরু করতে চাই সেটা করতে পেরেছি। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করছেন, এরই মধ্যে আপনার সেটা দেখেছেন। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নিজের ক্লাব মোহামেডান। এই ক্লাবে যেমন খেলেছেন। এখন ক্লাবটির স্থায়ী সদস্যও তিনি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান যে, মোহামেডানের মতো বড় ক্লাব দিয়ে আমার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। যে কারণে আমি দেশের ফুটবলের টপ লেভেলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছিলাম। ১৯৯৪ সালে আমি মোহামেডানে যোগ দিয়েছিলাম জুনিয়ার গোলরক্ষক হিসেবে। এর পর ৯৬ সালে ফরাশগঞ্জে খেলার সময়ই আমি জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলাম। তবে মোহামেডান থেকে ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার কারণে নিজেকে বেশি সমৃদ্ধশালী মনে হয়েছে।’

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি মো. বরকত উল্লাহ বুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি ভরে ছিল তারকা খেলোয়াড়ে। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ব্যাডমিন্টনের সাবেক তারকারা উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, পরিচালক (ক্রীড়া) মোস্তাকুর রহমান, পরিচালক (অর্থ) মাহাবুব উল আনাম, পরিচালক খায়রুল কবির খোকন এমপি, পরিচালক আবুল কালাম এমপি, পরিচালক নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, পরিচালক সাজেদ এএ আদেল, পরিচালক সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির ও পরিচালক জাকির হোসেন চৌধুরী।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার