বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যৌনকর্মীদের সেবার চাহিদা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
বিজ্ঞাপন
দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে পৌচ্ছে গেছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। 'দ্য বিগেস্ট শো অফ দ্য আর্থ' কে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক দর্শকের আগমন ঘটবে হোস্ট দেশ; যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডাতে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের এই আগমনকে ঘিরে যৌনকর্মীদের বুকিংও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১২ লাখ ফুটবলপ্রেমী বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি এলাকায় অবস্থান করবেন। এই অঞ্চলের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১৩ জুন থেকে আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, এর মধ্যে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালও রয়েছে।
মেগা ক্রীড়া ইভেন্টের সময় যৌনকর্মীদের ডিমান্ড বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। এরই মধ্যে কিছু এসকর্ট ও স্বাধীন যৌনকর্মী দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে তাদের সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রুকলিনের এক এসকর্ট কর্মী নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, বিশ্বকাপের আগে তার সেবার চাহিদা অনেক বেড়েছে। ৩১ বছর বয়সী ওই নারী প্রতি ঘণ্টায় ৮০০ ডলার নিয়ে বিশেষ ধরনের সেবা দিয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, মে মাসে তার অনলাইন প্রোফাইলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি মানুষ যোগাযোগ করেছে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভ্রমণের পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত অনুসন্ধানও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘মজার বিষয় হলো, দম্পতিদের কাছ থেকে অনুরোধ হঠাৎ করে অনেক বেড়েছে। সাধারণত মাসে একজন নতুন দম্পতির কাছ থেকে অনুরোধ পাই। কিন্তু গত এক মাসে ২৫টি অনুরোধ পেয়েছি।’
ওই এসকর্ট কর্মী জানান, তিনি পুরো দিনের সেবার জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। বিশ্বকাপ দেখতে আসা দর্শকদের কাছ থেকেও এককালীন বুকিং নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘টাকাই সবকিছু। কেউ যদি যথাযথ মূল্য দেয়, তাহলে অনেক কিছুই করা সম্ভব, তাই না?’
আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে কেউ এলে এবং পারিশ্রমিক উপযুক্ত হলে, আর সেবাটি আমার আগ্রহের মধ্যে থাকলে অবশ্যই আমি তা করব।’
‘স্পাইস ভি’ নামে পরিচিত নিউ জার্সিভিত্তিক আরেক এসকর্ট কর্মী জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জুন মাসের সময়সূচি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকরা আসার সঙ্গে সঙ্গেই সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। আমি এখন সেই প্রস্তুতিতেই আছি।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপ থেকে আসা কয়েকজন গ্রাহক ইতোমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর মধ্যে লন্ডনের একজন এবং কলোরাডো থেকে ম্যাচ দেখতে আসা আরেকজন দর্শকও রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলো সাধারণত বিভিন্ন সেবা খাতে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। কারণ, বিপুলসংখ্যক মানুষ আয়োজক শহরগুলোতে ভ্রমণ করেন।
তবে কিছু সেবা প্রদানকারী বাড়তি ব্যবসার আশা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানবপাচার ও শোষণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি এবং মন্টভিল পুলিশ প্রধান অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানো এনজে মনিটরকে বলেন, ‘বড় আয়োজনের কথা বললে আমরা সাধারণত সন্ত্রাসবাদ, জননিরাপত্তা, চুরি বা প্রতারণার মতো দৃশ্যমান হুমকির কথা ভাবি। এগুলো বাস্তব উদ্বেগ। কিন্তু আরেকটি অপরাধ আছে, যা এ ধরনের পরিবেশে বাড়তে পারে—সেটি হলো মানবপাচার।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানবপাচারসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে তারা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার ২০০ সদস্য মোতায়েন করবে।
মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষও টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য শোষণের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
গত ১১ মে প্রকাশিত এক পরামর্শপত্রে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) মানবপাচারের ‘সবসময় বিদ্যমান হুমকি’র কথা উল্লেখ করে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে লাখো দেশি-বিদেশি দর্শক অংশ নেবে। আয়োজক শহর বা তার আশপাশে অবস্থানকারী মানুষ যৌন বা শ্রম শোষণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অপরাধীরা বাড়তি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।’
নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্টও অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হবে, বিশেষ করে মানবপাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে।’
বিশ্বকাপ উপলক্ষে লাখো দর্শকের আগমন প্রত্যাশা করছে আয়োজকরা। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো বাড়তি তৎপরতা শুরু করেছে। কিছু এসকর্ট কর্মী সেবার চাহিদা বাড়ার দাবি করলেও, কর্তৃপক্ষ মানবপাচার ও শোষণ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।