Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

এবার অফসাইড ধরবে বল নিজেই, জেনে নিন ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

এবার অফসাইড ধরবে বল নিজেই, জেনে নিন ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব

বিজ্ঞাপন

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মধ্যে বল নিয়ে যে বিতর্ক হয়েছিল, সেখান থেকে শুরু করে আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগ, বিশ্বকাপের বলও বদলেছে সময়ের সঙ্গে। 

২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (TRIONDA) সেই বিবর্তনের সবচেয়ে আধুনিক উদাহরণগুলোর একটি। ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এডিডাস তৈরি করেছে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই অফিসিয়াল বল। উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি, নতুন নকশা ও রিয়েল-টাইম ডেটা আদান-প্রদানের সুবিধার কারণে এটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আধুনিক ‘স্মার্ট বল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি গঠিত হয়েছে ইংরেজি শব্দ Tri এবং স্প্যানিশ শব্দ Onda থেকে। ‘Tri’ দিয়ে বোঝানো হয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র অন্যদিকে ‘Onda’- অর্থ ‘ঢেউ’। ফলে বলের নামটির অর্থ দাঁড়ায় ‘তিন দেশের ঐক্যের ঢেউ’।

বলের বাহ্যিক নকশাতেও তিন স্বাগতিক দেশের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কানাডার ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারার প্রতীক। লাল, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে তৈরি নকশাটি তিন দেশের যৌথ আয়োজন ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরে থাকা ‘কানেক্টেড বল’ প্রযুক্তি। বলটিতে স্থাপন করা হয়েছে ৫০০ হার্টজের একটি মোশন সেন্সর, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এই সেন্সর বলের গতি, স্পর্শ, অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠায়। এর ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল কিংবা বল স্পর্শসংক্রান্ত বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট বল প্রযুক্তি প্রথমবার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল ২০২২ বিশ্বকাপে। তবে ট্রাইওন্ডায় সেই প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ যুক্ত করা হয়েছে, যা ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের আরও বেশি সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রাইওন্ডার আরেকটি বিশেষত্ব এর চার-প্যানেলের গঠন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এত কম প্যানেলযুক্ত বল আগে ব্যবহার হয়নি। অ্যাডিডাসের দাবি, এই নকশা বলের উড্ডয়নকে আরও স্থিতিশীল করবে, নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে এবং গতিপথকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য করে তুলবে। ফলে খেলোয়াড়রা আরও নিখুঁতভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

সেন্সরচালিত প্রযুক্তি সচল রাখতে বলটির ভেতরে থাকা চিপ নিয়মিত চার্জ দিতে হয়। সম্পূর্ণ চার্জে এটি প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। 

উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে, আর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে। ফুটবলের ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি ট্রাইওন্ডা শুধু একটি বল নয়, এটি বিশ্বকাপের প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার