বিজ্ঞাপন
আর্সেনাল-পিএসজি ‘মহারণে’ ফল গড়ে দেবে যে ৫ বিষয়
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম
বিজ্ঞাপন
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইঁ আজ শনিবার বুদাপেস্টের ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে। তারা নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে চাইবে। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১০টায় শুরু হবে।
আর্সেনাল এই ট্রফি আগে কখনো জেতেনি। তবে ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার পর মিকেল আর্তেতার দল বিশ্বাস করছে যে তারা ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিতে পারবে। পুশকাস অ্যারেনায় এই লড়াইয়ের আগে পাঁচটি বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে।
আর্সেনালের সেট পিস থেকে পিএসজির ‘ভয়’
এই মৌসুমে আর্তেতার দল কখনো কখনো ওপেন প্লে থেকে গোল করতে হিমশিম খেয়েছে। কিন্তু ডেড বল পরিস্থিতিতে তারা প্রতিপক্ষকে ভালোভাবেই বিপদে ফেলেছে। আর্সেনালের শক্তিশালী খেলোয়াড়রা কর্নার থেকে প্রতিপক্ষের ওপর আক্ষরিক অর্থেই দারুণ চাপ তৈরি করতে পারেন। বিশেষ করে সেন্টার-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েশ। পিএসজির গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে চাইবে তারা। সাফোনভকেই পিএসজির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা বলে মনে করা হচ্ছে আজকের ম্যাচের আগে। সেট পিস কোচ নিকোলাস জোভার এই কাজে সেরা বলে বিবেচিত। প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার পথে আর্সেনালের প্রায় ৪০ শতাংশ গোল এসেছে ডেড বল পরিস্থিতি থেকে।
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে আর্সেনালের এই কৌশলের কথা স্বীকার করে বলেছেন, ‘মানুষ হয়তো বলবে তারা দলগত গোল করে না, কিন্তু সেটাতে কার কী আসে যায়? যেকোনো আর্সেনাল সমর্থককে জিজ্ঞেস করুন, আমি নিশ্চিত তারা খুশি।’
পিএসজির শক্তি ‘বাম পন্থা’
গ্রোয়েনের চোট কাটিয়ে ফিরে আসা ইউরিয়েন টিম্বারের ফেরায় আর্সেনাল চাঙা। কারণ আর্তেতার সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা হলো পিএসজির বাম দিক সামলানো। উইঙ্গার কভিচা কভারাৎসখেলিয়া এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড়। করেছেন ১০ গোল। তার পেছনে আছে লেফট-ব্যাকে নুনো মেন্দেসের গতি।
আর্তেতাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে টিম্বারকে আড়াই মাস পর সরাসরি মাঠে নামাবেন, নাকি সেন্টার-ব্যাক ক্রিশ্চিয়ান মোসকেরাকে ডান দিকে ব্যবহার করবেন। টিম্বারের অনুপস্থিতিতে ডেক্লান রাইসকেও সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ফাইনালে পিএসজির ভিতিনিয়ার বিপক্ষে মাঝমাঠে রাইসকে অপরিহার্য মনে করা হচ্ছে।
আর্সেনাল কি একটু ক্লান্ত?
ফাইনালে আর্সেনালের সম্ভাব্য শুরুর একাদশের বেশিরভাগ খেলোয়াড় এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩ হাজার মিনিটের বেশি খেলেছেন। ডেক্লান রাইস, উইলিয়াম সালিবা, গ্যাব্রিয়েল, মার্তিন জুবিমেন্দি এবং ডেভিড রায়া ৪ হাজার মিনিটও ছাড়িয়ে গেছেন।
অন্যদিকে লুইস এনরিকে লিগ ওয়ানে অনেক মূল খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিতে পেরেছেন। ১৪ বছরে ১২তম শিরোপা জিতেছে পিএসজি। তাদের দলে কেবল উইলিয়ান পাচো, ভিতিনিয়া এবং ওয়ারেন জাইরে-এমেরি ৩ হাজার মিনিটের বেশি খেলেছেন।
ক্লিনশিটের লড়াই
দুই দলের পরিসংখ্যান দেখে অনেকেই মনে করছেন ফাইনালটি হবে পিএসজির ‘অপ্রতিরোধ্য আক্রমণ’ আর আর্সেনালের ‘দুর্ভেদ্য রক্ষণের’ মধ্যে লড়াই। এই টুর্নামেন্টে আর্সেনাল মাত্র ছয়টি গোল হজম করেছে এবং একটি ম্যাচেও হারেনি। গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ৯টি ক্লিনশিট রেখেছেন, যা এই প্রতিযোগিতার সর্বকালের রেকর্ডের সমান। তার সামনে গ্যাব্রিয়েল ও উইলিয়াম সালিবার জুটি শক্তিশালী প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অন্যদিকে পিএসজি এই টুর্নামেন্টে ৪৪টি গোল করেছে। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বার্সেলোনার করা ৪৫ গোলের রেকর্ড থেকে মাত্র একটি পিছিয়ে আছে তারা।
লুইস এনরিকের চমক, আর্তেতাও ‘তৈরি‘
সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিএসজি ৫-৪ গোলে জয় পেয়েছিল। কিন্তু চতুর কোচ লুইস এনরিকে মিউনিখে দ্বিতীয় লেগে পরিকল্পনা পুরোপুরি বদলে ফেলেন। অনেক রক্ষণাত্মক খেলে ১-১ ড্র করে ফাইনালে ওঠেন তারা। আর্সেনালের বিপক্ষেও কৌশল বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন এনরিকে। ওদিকে আর্তেতাও প্রতিপক্ষের বিষয়ে তৈরি বলে জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে এবারের ফাইনালে দুই প্রতিপক্ষকে নিজেদের চরিত্র বদলে ফেলতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।