বিজ্ঞাপন
ভারতকে ডাকছে বিশ্বরেকর্ড, নিউজিল্যান্ডের সামনে ইতিহাসের হাতছানি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
বিজ্ঞাপন
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা এক লাখ ৩২ হাজার। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রিকেট ভেন্যুতে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বাগতিক ভারতকে হারিয়ে ভরা গ্যালারির গর্জন থামিয়ে নীল জনসমুদ্রকে বিষাদের দরিয়ায় রূপ দিয়েছিল প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়া।
তিন বছর পর সেই ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ আজ অস্ট্রেলিয়ার পড়শি নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকরা ফেভারিট হলেও কামিন্সদের মতোই প্রায় দেড়শ কোটি ভারতীয়র হৃদয় ভেঙে এবং গ্যালারি স্তব্ধ করে শিরোপা উৎসবের স্বপ্ন দেখছেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।
দুদলের সামনেই আজ ইতিহাসের হাতছানি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি এবং দুবারের বেশি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি কোনো দল। আজ ভারত জিতলে তিনটি ক্ষেত্রেই তারা হবে ‘প্রথম’। অন্যদিকে কখনো সাদা বলের বিশ্বকাপ জিততে না পারা নিউজিল্যান্ডের সামনে প্রথম শিরোপার হাতছানি। ২০১৫ ও ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিউইদের স্বপ্ন ভেঙেছিল ফাইনালে। এবার তারা ফেভারিটের তালিকায় না থাকলেও সেমিফাইনালে দুর্ধর্ষ ফর্মে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে নয় উইকেটে হারিয়ে হিসাব উলটে দিয়েছে। স্বাগতিক, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল হয়েও নিউজিল্যান্ডকে সমীহ না করে পারছে না ভারত। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করা ফিন অ্যালেনের চেয়েও স্বাগতিকদের বেশি ভাবাচ্ছে ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচেই হেরেছে ভারত।
ঘরের মাঠে তুমুল প্রত্যাশার চাপ সামাল দেওয়াই হবে ভারতের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ। ব্যাটিংয়ে অভিষেক শর্মা ও বোলিংয়ে বরুন চক্রবর্তীর মতো র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দুই তারকা ছন্দে না থাকার পরও ফাইনালে উঠে নিজেদের শক্তির গভীরতা দেখিয়েছে ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রানপ্রসবা সেমিফাইনালে দারুণ এক ওভারেই ব্যবধান গড়েছেন জাসপ্রিত বুমরা। ব্যাট হাতে বাকিদের ব্যর্থতা একাই পুষিয়ে দিচ্ছেন শেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৯৭* ও ৮৯ রান করা সঞ্জু স্যামসন। ফাইনালে আরেকটি বড় ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা এনে দিতে চান স্যামসন, ‘সত্যি বলছি, সেঞ্চুরি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আরেকটি বড় ইনিংস খেলে ভারতকে শিরোপা এনে দিতে পারলেই আমি খুশি। শেষ ধাপটাই সবচেয়ে কঠিন।’
সেই কঠিনেরে জয় করার স্বপ্ন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্যান্টনারের চোখে, ‘এটা সবাই জানে যে, আমরা ফেভারিট নই। তবে কিছু হৃদয় ভেঙে এই ট্রফিটা একবার উঁচিয়ে ধরতে আমার ভালোই লাগবে। গ্যালারির গর্জন থামিয়ে দেওয়া হবে লক্ষ্য। আশা করি, দক্ষিণ আফ্রিকার পর আরেকটি বড় দলকে আমরা হতাশ করতে পারব। ভারত এমনিতেই চাপে থাকবে। আমরা সেটা আরও বাড়িয়ে দিতে পারলে যে কোনো কিছু সম্ভব।’
লাল ও কালো মাটির মিশ্রণে তৈরি ব্যাটিং সহায়ক পিচে হবে ফাইনাল। পেসারদের জন্যও কিছু সহায়তা থাকবে উইকেটে। ফাইনালে বৃষ্টির শঙ্কা তেমন নেই। রিজার্ভ ডেও আছে। দুদিন মিলে অন্তত ১০ ওভারের ম্যাচ শেষ করা না গেলে প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী দুদলকে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে।
বিজ্ঞাপন