বিজ্ঞাপন
ক্রিকেটের নিয়মে আসছে বড়সড় পরিবর্তন, কার্যকর যেদিন থেকে
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
ক্রিকেটের ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি আনতে যাচ্ছে খেলাটির আইন প্রণয়নকারী সংস্থা মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। ক্রিকেটের বিভিন্ন নিয়মে মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন সংশোধিত আইন কার্যকর হবে।
এমসিসি জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো ক্রিকেটের আইনগুলোকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, খেলাটিকে সব স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য আরও সহজবোধ্য করে তোলা, খরচ কমানো এবং ক্রিকেটকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গড়ে তোলা।
নতুন আইনগুলো আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়, আম্পায়ার ও বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ড এগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারে। এরই মধ্যে আইসিসি ও অন্যান্য ক্রিকেট সংস্থা তাদের খেলার শর্তাবলিতে কিছু নতুন নিয়ম ব্যবহার শুরু করেছে।
এমসিসির আইনবিষয়ক উপ-কমিটি এসব পরিবর্তনের খসড়া তৈরি করে। পরে তা ক্রিকেট কমিটি ও মূল কমিটির অনুমোদন পায়।
লেমিনেটেড ব্যাট ব্যবহারে অনুমতি
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো প্রাপ্তবয়স্কদের বিনোদনমূলক ক্রিকেটে লেমিনেটেড (টাইপ-ডি) ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি। আগে এই ব্যাট কেবল জুনিয়র ক্রিকেটেই ব্যবহার করা যেত।
এই ব্যাট সর্বোচ্চ তিনটি কাঠের টুকরো দিয়ে তৈরি হয়। ইংলিশ উইলো কাঠের সংকটের কারণে ব্যাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমসিসির গবেষণায় দেখা গেছে, এই ব্যাট ব্যবহারে অতিরিক্ত সুবিধা খুবই সামান্য। ফলে এটি বিশেষ করে অপেশাদার ক্রিকেটারদের জন্য টেকসই ও কার্যকর সমাধান।
ব্যাটের নতুন মাপ নির্ধারণ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাটের সর্বোচ্চ মাপ হবে প্রস্থ: ১০৮ মিলিমিটার, গভীরতা: ৬৭ মিলিমিটার, এজ (কিনারা): ৪০ মিলিমিটার।
এ ছাড়া ব্যাটের মুখের পেছনে এখন উইলো ছাড়া অন্য উপাদান ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে এখনো এক টুকরো উইলো ব্যাটই ব্যবহার করা হবে।
ম্যাচ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে (টেস্ট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাচ) এখন থেকে দিনের শেষ ওভারটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা হবে, এমনকি নির্ধারিত সময়ের পর উইকেট পড়লেও।
আগের নিয়মে দিনের শেষ সময়ে উইকেট পড়লে নতুন ব্যাটার পরদিন সকালে খেলতে নামতেন। এমসিসির মতে, এতে ব্যাটিং দল অন্যায্য সুবিধা পেত। তাই নিয়মটি পরিবর্তন করা হয়েছে।
ওভারথ্রো ও আচরণবিধিতে কড়াকড়ি
ওভারথ্রো সংক্রান্ত আইন নতুন করে লেখা হয়েছে। বিভ্রান্তি দূর করতে ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের আচরণবিধিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আম্পায়াররা ৫ রান পেনাল্টি দিতে পারবেন,খেলোয়াড়কে সাময়িকভাবে বা পুরো ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে পাঠাতে পারবেন।
অধিনায়ক যদি শাস্তি কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে প্রতিপক্ষের জয় বা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করার ক্ষমতাও থাকবে আম্পায়ারদের হাতে।
আরও যেসব পরিবর্তন এসেছে
* বদলি খেলোয়াড় এখন উইকেটকিপিং করতে পারবেন
* চোট এড়াতে তারে বাঁধা বেইল ব্যবহারের অনুমতি
* জুনিয়র ও নারী ক্রিকেটে বলের আকার তিনটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে ভাগ
*শর্ট রান ও ডেড বল সংক্রান্ত নিয়ম আরও পরিষ্কার।
খেলার আইন থেকে লিঙ্গভিত্তিক ভাষা বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্রিকেট আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। এমসিসির মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্রিকেট আরও আধুনিক, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞাপন