বিজ্ঞাপন
ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যা বলছেন পাকিস্তানিরা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ও সাবেক ক্রিকেটাররা।
রোববার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বৈঠকের পর জানানো হয়, পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে। টুর্নামেন্ট শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। তবে তারা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র জিও নিউজকে জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণই এ সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। বাংলাদেশ নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করেছিল। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সূত্রগুলো জানায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পাকিস্তান বাংলাদেশর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে চায়। ভারত ও পাকিস্তানের আগের সমঝোতা অনুযায়ী, আইসিসির যেকোনো টুর্নামেন্টে পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলে। এবারের বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আইসিসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ‘সব পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খোঁজার আশা প্রকাশ করেছে। তারা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছে। তবে এসব মন্তব্যের পরও পাকিস্তানে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে জনসমর্থন আরও জোরালো হয়েছে।
সাবেক পাকিস্তান টেস্ট ক্রিকেটার মোহাম্মদ ইউসুফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘সরকারের কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। বাণিজ্যিক স্বার্থের আগে নীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেটে বেছে বেছে প্রভাব খাটানো বন্ধ না হলে খেলাটি কখনোই সত্যিকারের বৈশ্বিক হবে না।’
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও সামাজিক মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান।
সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ আইসিসির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘আইসিসি এখন ক্রিকেটের পরিবেশ রক্ষার কথা বলছে। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ না খেললে আইসিসি কোথায় ছিল। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড হারারে যায়নি। নিউজিল্যান্ড নাইরোবি যায়নি। আইসিসিকে বুঝতে হবে, তারা এখন চেকমেট হয়েছে।’
পাকিস্তানের টেস্ট ব্যাটার আবিদ আলি বলেন, এখানে জাতীয় সম্মান ও গৌরবই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষক ও সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার সিকান্দার বখত জিও নিউজকে বলেন, ‘একটি দারুণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেখুন, ভারত সারা বিশ্বের সঙ্গে হাত মেলায়, কিন্তু আমাদের সঙ্গে নয়। ভারত সবার কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি। কিন্তু পাকিস্তানের কাছ থেকে নয়।’
এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৫ এশিয়া কাপের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। ওই সময় এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ভারত।
বখত বলেন, ‘ওরা যখন এমন করতে পারে, তখন আমরাও পারি। আমরা সারা বিশ্বের সঙ্গে ক্রিকেট খেলব, কিন্তু ভারতের সঙ্গে নয়। এই সিদ্ধান্ত অনূর্ধ্ব-১৯ ও নারী দলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’
বিজ্ঞাপন