Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

ফুটবল বিশ্বকাপ আর অলিম্পিকে যত বয়কটের নজির

Icon

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

ফুটবল বিশ্বকাপ আর অলিম্পিকে যত বয়কটের নজির

বিজ্ঞাপন

বিসিবি শেষ পর্যন্ত ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বাংলাদেশকে ছাড়াই এই বৈশ্বিক আসর বসবে। তবে বাংলাদেশই প্রথম নয়, বিশ্ব ক্রীড়া ইতিহাসে বড় আসর থেকে সরে দাঁড়ানোর অনেক নজির রয়েছে। আজ দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তিতে আন্তর্জাতিক ফুটবল ও অলিম্পিকে ‘বর্জন’ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ফুটবল

ফুটবলে বয়কট-সংকটের শুরু ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে। বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার লড়াইয়ে হেরে যাওয়ায় উরুগুয়েতে খেলতে যায়নি ইতালি, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও স্পেন। তিন সপ্তাহের দীর্ঘ নৌভ্রমণের ধকল এড়াতে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডও বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এছাড়া ফিফার সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ১৯৩০ বিশ্বকাপে খেলেনি ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও আয়ারল্যান্ড। ঘরের মাঠে সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল উরুগুয়ে। ১৯৩৪ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ফুটবল বিশ্বকাপ বর্জন করে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। দূরত্বের অজুহাত দেখিয়ে চার বছর আগে ইউরোপের দলগুলো তাদের দেশে খেলতে না আসায় উরুগুয়েও ইউরোপের দেশে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।

আয়োজক হওয়া নিয়ে দুই মহাদেশের দ্বন্দ্বে ১৯৩৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ বর্জন করে দক্ষিণ আমেরিকার দুই দেশ আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। পরপর দুটি বিশ্বকাপ ইউরোপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি তারা। ভিন্ন ভিন্ন কারণে ব্রাজিলে ১৯৫০ বিশ্বকাপ বর্জন করে ভারত ও তুরস্ক। ভারতের ফুটবলারদের খালি পায়ে বিশ্বকাপে খেলতে দিতে রাজি হয়নি ফিফা। বুট পরে খেলার বাধ্যবাধকতার কারণে বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া ভারত আর কখনোই ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে আর্থিক সংকটের দরুন ১৯৫০ বিশ্বকাপে খেলেনি তুরস্ক।

ইংল্যান্ডে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ বয়কট করে গোটা আফ্রিকা তখন এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশ মিলিয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেত মাত্র একটি দেশ। সংখ্যাটা বাড়াতে ফিফা অস্বীকৃতি জানায়। তাই বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাওয়া আফ্রিকার ১৫টি দেশ একজোট হয়ে বিশ্বকাপ বর্জন করে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৯৭০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল মরক্কো। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৪ বিশ্বকাপ বর্জন করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)। চিলির সান্তিয়াগো স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে তারা অস্বীকৃতি জানায়। ওয়াকওভার পেয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় চিলি।

অলিম্পিক

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ অলিম্পিকেও আছে বর্জনের দীর্ঘ ইতিহাস। নাৎসি জার্মানির বর্ণবাদী রাজনীতির প্রতিবাদে ১৯৩৬ বার্লিন অলিম্পিক বর্জন করে স্পেন। ভিন্ন কারণে ১৯৫৬ মেলবোর্ন অলিম্পিক বর্জন করে সাতটি দেশ। হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে অলিম্পিক থেকে সরে দাঁড়ায় নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড। সুয়েজ খাল নিয়ে সংকটের জেরে সেবার অলিম্পিকে অংশ নেয়নি মিসর, ইরাক ও লেবানন। এছাড়া তাইওয়ানকে খেলার সুযোগ দেওয়ায় অলিম্পিক বয়কট করে চীন।

১৯৭৬ মনট্রিল অলিম্পিক বর্জন করে আফ্রিকার ২৮টি দেশ। বর্ণবাদের দায়ে নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকায় রাগবি দল পাঠিয়ে এ সংকটের সূচনা করেছিল নিউজিল্যান্ড। আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ৬৫টি দেশ বর্জন করে ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিক। এর জেরে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ১৪টি দেশ বয়কট করে ১৯৮৪ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার