Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলা

অখ্যাত ক্লাব সংগঠক নাজমুল ছিলেন পাপনের বোর্ডেও

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

অখ্যাত ক্লাব সংগঠক নাজমুল ছিলেন পাপনের বোর্ডেও

বিজ্ঞাপন

কদিন আগেও ক্রিকেটাঙ্গনে সেভাবে কেউ চিনত না তাঁকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলেই মিডিয়ার সামনে চলে আসেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। ক্রিকেটারদের প্রবল প্রতিবাদের মুখেও লাগাম টানেননি তিনি। বেফাঁস মন্তব্যে মাত্রা ছাড়িয়ে যান এই পরিচালক। মূলত তাঁর কারণেই বিপিএল বয়কট করেছেন ক্রিকেটাররা। সেই সঙ্গে কৌতূহল তৈরি করে দিয়েছেন সবার মধ্যে– কে এই নাজমুল ইসলাম? বিসিবিতেই বা তাঁর এত প্রভাব কেন? উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিসিবির এই পরিচালক দুই দশকের বেশি সময় ধরে ক্রিকেটে আছেন। তৃতীয় বিভাগের দল ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি তিনি। এই ক্লাব থেকেই কাউন্সিলর হয়েছেন। রাতের নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে ৩৭ ভোট পেয়ে পরিচালক হন নাজমুল। 

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশীর্বাদপুষ্ট হিসেবে পরিচিত তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নাজমুল হাসান পাপনের বোর্ডেও ছিলেন নাজমুল। বিসিবি থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের দিকে বিসিবি নারী বিভাগের সদস্য সচিব ছিলেন তিনি। সাবেক পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে বিসিবি পরিচালক হয়েছেন বলে অভিযোগ। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের দাবির মুখে এম নাজমুল ইসলামকে ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গঠনতন্ত্রের ৩১ অনুচ্ছেদের দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিসিবির এই পরিচালক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্রিকেটারদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে নাজমুলের পদত্যাগ দাবি করে। তিনি পদত্যাগ না করলে সব ধরনের খেলা বয়কটের হুঙ্কার দিয়েছিলেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। নাজমুল পদত্যাগ না করায় ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

নাজমুল মূলত একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে লেখাপড়া শেষ করে ব্যবসা শুরু করেন। কুমিল্লা থেকে উঠে আসা এই সংগঠকের ক্রিকেটে আসাটাও হঠাৎ করে। ট্যালেন্ট হান্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহিবুল ইসলাম টোটনের হাত ধরে সংগঠক বনে গেছেন ২০০৫ সালের দিকে। মহিবুল গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ ব্যবসায়ী। সেই সূত্রে নাজমুলের সঙ্গে পরিচয়। ক্লাবের আর্থিক সহায়তার জন্য সভাপতি করেন নাজমুলকে। মিরপুর ১ নম্বরের দিকে ঈদগাহ মাঠে ট্যালেন্ট হান্ট একাডেমি। তারা লিগে খেলে বিকেএসপির ক্রিকেটারদের নিয়ে। একটা সময়ে প্রথম বিভাগেও খেলেছে ক্লাবটি। সাদামাটা দল গড়ে ধাপে ধাপে অবনমিত হয়ে তৃতীয় বিভাগে নেমে গেছে ক্লাবটি। বিসিবির বিতর্কিত পরিচালক নাজমুল ইসলাম বর্তমানে মিরপুর ১০ নম্বরে বসবাস করেন। 

সম্প্রতি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে মন্তব্য করায় তাঁকে ভারতের পরীক্ষিত দালাল বলেন। ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘এইবার আরও একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখল।’ এ নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলেও দুঃখ প্রকাশ করেননি তিনি। উল্টো বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেটারদের নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে মিডিয়ায় বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে রাতে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জুম ব্রিফিংয়ে আলটিমেটামে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে পরিচালক পদ থেকে নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করার ঘোষণা দিলাম।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার