বিজ্ঞাপন
এবার লিটন দাসের চুক্তিও বাতিল করল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান!
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব এখন খেলার মাঠ ছাড়িয়ে বাণিজ্যিক চুক্তিতেও দৃশ্যমান। ভারতীয় জনপ্রিয় ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসজি (SG) বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার লিটন কুমার দাস, মুমিনুল হক এবং ইয়াসির আলী রাব্বির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের স্পনসরশিপ চুক্তি আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ক্রিকেটারদের এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এসজি কর্তৃপক্ষ আগে চুক্তি নবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও সম্প্রতি আকস্মিকভাবে তারা পিছু হটেছে। চুক্তি ‘বাতিল’ বা নবায়ন না করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শায়নি। এর ফলে লিটন দাসের ব্যাটে এখন থেকে আর এসজির স্টিকার দেখা যাবে না, যা তার ব্যক্তিগত আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
দুই দেশের ক্রিকেটে এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনা। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেকেআর তাকে দলে নিলেও উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার গত সোমবার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি।
বাংলাদেশে ভারতের ক্রীড়া সামগ্রীর একটি বিশাল বাজার রয়েছে। তবে বর্তমান ‘বয়কট ইন্ডিয়া’ পরিস্থিতির কারণে এই বাজারে বড় ধরণের ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসজি বা অন্য ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলো সরে গেলে সেই জায়গা দখল করতে পারে পাকিস্তানের ‘সিএ’ (CA) বা ‘এমকেএস’ (MKS) এর মতো ব্র্যান্ডগুলো। উল্লেখ্য, সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল দেশে সিএ ব্যাটের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।
বর্তমানে সিলেটে অনুষ্ঠিত বিপিএলে অনেক ক্রিকেটার এসজি সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। চুক্তি বাতিলের খবরে এই ব্র্যান্ডের প্রতি ক্রিকেটার ও সাধারণ ক্রেতাদের অনীহা তৈরি হতে পারে।
টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, "আমি শুনেছি লিটনের স্পনসর চুক্তি বাতিল হয়েছে। আমার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে জানানো হয়নি, তবে দ্রুতই হয়তো জানতে পারব।"
অন্যদিকে, বিসিবির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারত এখন বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটা পাকিস্তানের মতো আচরণ শুরু করছে। ভারত যদি এভাবে একের পর এক চুক্তি বাতিল করে, তবে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প দেশের (যেমন পাকিস্তান) স্পনসরদের দিকে ঝুঁকে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত স্পনসরশিপ বাতিলের এই ঘটনা ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো কাজ করেছে। এটি কেবল খেলাধুলায় সীমাবদ্ধ না থেকে ভারতীয় পণ্য বয়কটের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে পারে।
বিজ্ঞাপন