বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ না গেলে কী হবে? বিশ্বকাপ ঘিরে আইসিসির সামনে কঠিন তিন পথ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ এএম
বিজ্ঞাপন
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগেই এক অস্বস্তিকর মোড়ে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বিষয়টি আর শুধু ভেন্যু বদলের আবেদন নয়—প্রশ্নটা এখন আরও বড়: বাংলাদেশ যদি ভারতে খেলতেই না যায়, তাহলে কী হবে বিশ্বকাপের ভাগ্যে? মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল–পর্ব ঘিরে তৈরি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সম্ভাব্য বৈশ্বিক ক্রিকেট সংকটে।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিই নির্ধারিত কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে, আর একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চায়—এই ম্যাচগুলো ভারতে নয়, শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। আইসিসির কাছে সেটিই তাদের আনুষ্ঠানিক দাবি।
আইসিসির সামনে কী কী বিকল্প
এই সংকট মোকাবিলায় আইসিসির সামনে বাস্তবসম্মত তিনটি পথ খোলা আছে, আর সময়ই নির্ধারণ করবে কোন পথে হাঁটবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
প্রথম পথ—সমঝোতা
আইসিসি চাইলে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে পারে। এতে ২০ দলের টুর্নামেন্ট কাঠামো অক্ষুণ্ন থাকবে, সূচির বড় ধরনের ক্ষতিও হবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই সিদ্ধান্তে পুরো বিতর্কটি লজিস্টিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে।
দ্বিতীয় পথ—‘অ্যাওয়ার্ডেড ম্যাচ’
যদি আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন নাকচ করে এবং বাংলাদেশও ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচগুলো বাংলাদেশের প্রতিপক্ষদের পক্ষে ‘অ্যাওয়ার্ড’ করে দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ মাঠে না নেমেই ম্যাচ ও পয়েন্ট হারাবে, কার্যত বিশ্বকাপে তাদের অভিযান সেখানেই শেষ হয়ে যাবে।
তৃতীয় পথ—পূর্ণ প্রত্যাহার
সবচেয়ে চরম পরিস্থিতি হবে বাংলাদেশ পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়ালে। তখন আইসিসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ফরফিট হিসেবে ধরা হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশ না থাকলে কে আসতে পারে?
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল নির্ধারণের জন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ‘রিজার্ভ তালিকা’ নেই। ফলে প্রতিস্থাপন হলে সেটি হবে আইসিসির বিবেচনাধীন সিদ্ধান্ত।
এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় স্কটল্যান্ড। তারা অভিজ্ঞ সহযোগী দেশ, দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার সক্ষমতা আছে এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। ২০০৯ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ালে স্কটল্যান্ডই তাদের জায়গা নিয়েছিল।
তবে একটি জটিলতা আছে। ২০২৬ সালের ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইয়ে স্কটল্যান্ড শীর্ষে ছিল না। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে, আর স্কটল্যান্ডের ওপরে ছিল জার্সি। ফলে যোগ্যতার ভিত্তিকে প্রাধান্য দিলে জার্সি ও বিকল্প হিসেবে সামনে আসতে পারে।
এই পুরো পরিস্থিতি আসলে আইসিসির শাসনব্যবস্থার বড় পরীক্ষা। একদিকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আয়োজক দেশের দায়বদ্ধতা, আর তৃতীয়ত—ভবিষ্যতের নজির। একবার যদি কোনো দল সূচি ঘোষণার পর ভেন্যু নিয়ে অনড় অবস্থান নেয়, ভবিষ্যতে অন্য দলগুলিও একই পথ নিতে পারে।
বাংলাদেশ আপাতত ভেন্যু বদলের আবেদন জানিয়েছে। সেটি কি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহারে রূপ নেবে, নাকি আইসিসি সমঝোতার পথে হাঁটবে—তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই সংকট বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি করে দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন