বিজ্ঞাপন
রুমিন ফারহানা-ফজলুর রহমানকে বাইরের এজেন্ট মনে করি: মাদানী
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও সাবেক বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানকে ‘বাইরের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন আলোচিত ধর্মীয় বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্ট্যাটাসে রফিকুল ইসলাম মাদানী জানান, রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান ‘পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও’ তাদের সঙ্গে কোথাও যাবেন না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা না জেনে-শুনে কোনো বক্তব্য দিলে সেটি তার কাছে বেশি কষ্টের।
মাদানী বলেন, ‘রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমানের বক্তব্যে আলেম-ওলামাদের তেমন প্রতিক্রিয়া না থাকলেও যাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা কোনো বিষয়ে ‘না জেনে, না শুনে’ বক্তব্য দিলে কষ্ট লাগে।’
স্ট্যাটাসে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সবাই রাজুতে আসেন বলার পর রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমানের ডাকে কোন মাদ্রাসার ছাত্ররা গিয়েছিল শাহবাগে? কিংবা আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনে কার ডাকে স্কুলের পাশাপাশি মাদ্রাসার ছাত্ররা গিয়েছিল?’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাদানী বলেন, ‘একদিন হাসনাত আবদুল্লাহ তাকে ফোন করে ঢাকায় আসতে এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে বলেছিলেন। ওই সময় হাসনাত তার ফোন নম্বর কোথায় পেলেন, তা নিয়ে তিনি অবাক হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।’
মাদানী বলেন, ‘আমিও সোজা চলে গেলাম, সঙ্গে যারা ছিল তাদের নিয়ে গিয়ে দেখলাম, শাহবাগে অনেক মাদ্রাসার ছাত্রও সেখানে উপস্থিত।’
পরবর্তী সময়ে হাসনাত আবদুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসনাতের বাড়িতে তার দাওয়াতেও তিনি গিয়েছেন।
রুমিন ফারহানা ও ফজলুর রহমান প্রসঙ্গে মাদানী তার স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘রুমিন ফারহানা বা ফজলুর রহমান—এ ধরনের লোক পায়ে ধরে সারাদিন পড়ে থাকলেও আমরা কোথাও যাব না। এদের আমরা বাইরের এজেন্ট মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এদের বক্তব্যের মাঝেমধ্যে প্রতিবাদ করি, আবার করিও না!’
হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও নাহিদ ইসলামের সঙ্গে মাদ্রাসা ও মসজিদকেন্দ্রিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে মাদানী বলেন, তারা যখন কোনো মাদ্রাসা বা মসজিদে যান, তখন শিক্ষার্থীরা তাদের সম্মান ও ভালোবাসা দেখায় এবং নিজেদের লোক মনে করে।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এখন সেই মানুষগুলো যখন সংসদের মতো জায়গায় এভাবে না জেনে, না শুনে বক্তব্য দিলে কষ্ট তো লাগবেই!’
রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করে মাদানী আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপিতে থাকা শাহবাগী মার্কা কথা বলা বিদেশি এজেন্টদের কথা শুনলে মনে হয়, ওহ, এ আর নতুন কী? এরা তো চিহ্নিত কালপ্রিট!’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘আর যাদের ডাকে আমরা যাই, যাদের প্রতি মোহাব্বত রাখি, তারা এমন করলে মনে হয় বে-ঈমানি! ওপেন শত্রুতা সহ্য হয়, মোনাফেকি না!’