বিজ্ঞাপন
রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করতে বললেন গকসু এজিএস
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম
বিজ্ঞাপন
গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টে তিনি ছাত্রশিবিরের উদ্দেশে ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ করার আহ্বান জানিয়ে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত; এর সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা গকসুর কোনো সম্পর্ক নেই।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে সামিউল হাসান শোভন লেখেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এবং ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সম্পর্ককে তিনি ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ হিসেবে দেখছেন। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, অতীতে শিবিরের বিরুদ্ধে ‘পায়ের রগ কাটার’ অপবাদ ছিল এবং ‘সন্ত্রাস রুখতে প্রয়োজনে দুই-একটি রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ করার কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ‘শিবির ক্যাডার নাসির’-কে উদ্দেশ করে পুনরায় জেগে ওঠার আহ্বান জানান।
গকসু নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে এজিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সামিউল হাসান শোভন। পোস্টটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পোস্টটি তিনি নিজেই দিয়েছেন। তবে এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত এবং এর সঙ্গে গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা ছাত্র সংসদের কোনো সম্পর্ক নেই।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর সমালোচনা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম ফেসবুকে লেখেন, একজন ছাত্র সংসদের এজিএসের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন ছাত্রপ্রতিনিধির এমন হুমকিসূচক বক্তব্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে নেবেন না।
এদিকে গকসুর ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তর ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে ‘ছাত্রদলের রগ কাটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রসিডিউর’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন ধাপ উল্লেখ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করা হয় এবং অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহারের কথাও লেখা হয়।
সমালোচনার বিষয়ে সামিউল হাসান শোভন বলেন, তার পোস্টে কোথাও গণ বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ নেই।
এটি জাতীয় সংসদ ও দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা ব্যক্তিগত মন্তব্য। কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পোস্টটির সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
গকসুর ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, ‘ছাত্র সংসদের কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বক্তব্যের দায়ভার ছাত্র সংসদ নেবে না। দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলে তার প্রতিফলন কথাবার্তাতেও থাকা উচিত। ব্যক্তিগত অনুভূতির চেয়ে দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশে সংযত ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।’
গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. নির্জন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা প্রতিহত করতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। তার অভিযোগ, শিবির সহিংসতার হুমকি দিয়ে সন্ত্রাসী রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং এ ধরনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’
সাত বছর পর অনুষ্ঠিত গকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা জিএস, এজিএসসহ চারজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে নিজেদের সমর্থিত প্যানেলের সদস্য হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানান। পরে স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতারাও তাদের শুভেচ্ছা জানান।
এ ছাড়া গত কয়েক মাসে শিবিরের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গকসুর এজিএস সামিউল হাসান শোভনের উপস্থিতির ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে শিবিরের ফটোকার্ড-সংবলিত প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করেছিলেন। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বরাবরের মতো এবারও অস্বীকার করেছেন।