Logo
Logo
×

রাজনীতি

৮ দলের আসন সমঝোতা চলছে, জামায়াত ১৭০, বাকিরা ১৩০

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৫ এএম

৮ দলের আসন সমঝোতা চলছে, জামায়াত ১৭০, বাকিরা ১৩০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি আসনে ‘একক ইসলামি ভোটবাক্স’ নিশ্চিত করার লক্ষ্য জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের আসন সমঝোতা শিগগির শুরু হবে। তবে এটি প্রচলিত কোনো নির্বাচনি জোট হবে না, শুধু আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেবে দলগুলো। একাধিক নির্ভরযোগ সূত্র জানায়, আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের আসন সমঝোতা আলোচনার শুরু হবে। এখন প্রার্থীদের ওপর শেষ বারের মতো মাঠপর্যায়ের জরিপ চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শরিকদের প্রাথমিক চাহিদা অন্তত ১৩০ থেকে ১৪০টি। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তারপরও বেশির ভাগ আসন জামায়াতের থাকবে। তবে এই হিসেবে এবি পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নেই। 

সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এক বছর আগেই ৩০০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল জামায়াত। দলটির একাধিক নেতা বলছেন, এটা প্রাথমিক তালিকা, চূড়ান্ত নয়। কারণ জোট কিংবা আসন সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দলের পক্ষ থেকে আগে দেওয়া হয়েছিল। আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবেন তারা। যে আসনে যার জয়ের সম্ভাবনা আছে, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে- তিনি যে দলেরই হোন না কেন। 

সূত্র জানায়, নির্বাচনি বা আসনভিত্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কৌশল চূড়ান্ত করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে একাধিক নেতা বলেন, নির্বাচনি জোট হলে জোটপ্রধান কে হবেন, জোটের নামসহ নানা বিষয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অতীতে জোটের রাজনীতি সুখকর হয়নি। এই মুহূর্তে আসন ভাগাভাগি, অভিন্ন নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি এবং সম্মিলিতভাবে প্রচার চালানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। 

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী বেশ আগেই দলীয় প্রার্থীর নাম স্থানীয়ভাবে ঘোষণা করেছে। এখন অন্য কয়েকটি দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে। তাই বলতে হবে, এখনো আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে জামায়াতে ইসলামী শতাধিক আসনে জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।’

ইসলামী আন্দোলন এখনো কোনো তালিকা প্রস্তুত করেনি। তবে দলটি প্রতিটি দলের জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রতিটি আসনে একক ইসলামী ভোটবাক্স নিশ্চিত করার টার্গেট দলটির। প্রার্থীদের ওপর জরিপ চালানো হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আট দলের আসন সমঝোতা নিয়ে আমাদের লিয়াজোঁ কমিটি এখনো বসেনি। আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে সংখ্যা ব্যাপার নয়।

তিনি বলেন, যে আসনে যে দলের যে প্রার্থীকে নির্বাচন করলে জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, তাকেই শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এতে যে দলের ভাগে যে কয়টি আসন পাওয়া যাবে সেটি মেনে নিতে হবে।’ আমরা জোটের সর্বোচ্চসংখ্যক প্রার্থীকে জিতিয়ে সংসদে যেতে চাই।

আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে দলের প্রার্থীদের দুটি তালিকা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে ৩০টি আসন। দ্বিতীয়ত, তাদের লক্ষ প্রতিটি জেলায় দলটির একজন ভালো প্রার্থীর আসন নিশ্চিত করা। খেলাফতের নেতারা বলছেন, প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকা ৩০জন প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি আছে। তাদের ব্যাপারে আমরা কোনো সমঝোতা করব না। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তালিকায় রয়েছেন- ঢাকা-১৩ ও বাগেরহাট-১ আসনে দলের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক, শরীয়তপুর-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ফরিদপুর-২ আসনে অভিভাবক পরিষদ সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নায়েবে আমির সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ফরিদপুর-১ আসনে যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শারাফাত হুসাইন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মাওলানা মুহিববুল্লাহ, নরসিংদী-৩ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, ফরিদপুর-৪ আসনে মাওলানা মিজানুর রহমান মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আনোয়ার হুসাইন, কক্সবাজার-২ আসনে মাওলানা উবাইদুল কাদের নদভী, চাঁদপুর-১ (কচুয়া) মুফতি আনিসুর রহমান, ময়মনসিংহ-২ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, নেত্রকোনা-১ আসনে সাবেক এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী, ঢাকা-১৪ আসনে হাব নেতা হাফেজ নুর মোহাম্মদ, ময়মনসিংহ-১ আসনে হালুয়াঘাট থানা সভাপতি মাওলানা তাজুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা এহসানুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে মুফতি আমজাদ হুসাইন আশরাফী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, হবিগঞ্জ-১ আসনে সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে সব দলের আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে। সব দল নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করছে। তবে কে কত আসনে প্রার্থী দেবে, সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’ 

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আসন সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। শিগগির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ 

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ২০ থেকে ২৫টি আসনে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। দলটির নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘আসন সমঝোতার ব্যাপারে এখনো আমরা আলোচনা শুরু করিনি। আসন সমঝোতা নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হবে না। আমরা মোটামুটি একটা তালিকা ধরে এগোব।’

আলোচনার টেবিলে অন্তত পাঁচটি আসন সমঝোতা করার চেষ্টা করবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা। এই আসনগুলো হলো- পঞ্চগড় ১ ও ২, দিনাজপুর-১ ও ৩ এবং যশোর-৩। এর বাইরে নরসিংদী-৩ আসনটি চাইবে তারা। জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের সমস্যা হোক, সেটা আমরা চাই না। আমরা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসব।’

নেজামে ইসলাম পার্টি ১০টির বেশি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ১০টি আসনে ছাড়ের জন্য আলোচনা করবে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিডিপি তিন থেকে চারটি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিডিপির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা আসনভিত্তিক প্রার্থীদের ওপর জরিপ চালাচ্ছি। এরপর সিদ্ধান্ত নেব।

নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, ‘এখনো আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করিনি। আমরা ১০টির বেশি আসন চাইব। আমাদের যেসব আসনে প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেই সব আসনে ছাড় চাওয়া হবে।’

এবি পার্টি ও এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চলছে

সূত্র জানায়, জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে আসন সমঝোতার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের আলোচনা চলছে। এনসিপি ও এবি পার্টি যদি জামায়াতে ইসলামীর জোটে যোগ দেয়, তাহলে আরও কয়েকটি আসন ছাড় দেওয়া হবে। দলগুলোর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিন আলোচনা চলছে। তবে কোনো কিছু এখনো চূড়ান্ত নয়। তাহলে জামায়াতে ইসলামীর আসন সংখ্যা আরও কমবে। এ ছাড়া হিন্দু সংগঠনের একাধিক নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে। যেমন খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু শাখার সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। 

আট দলের লিয়োজোঁ কমিটিতে ১৬ জন

আট দলের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য প্রতিটি দল থেকে দুজন করে নিয়ে ১৬ সদস্যর একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আসন সমঝোতাসহ কমর্সূচির তদারিক করছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিনী, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চান প্রমুখ।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার