Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের চাঁদাবাজির অভিযোগ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০২:০৫ এএম

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ দিয়ে কলেজ শিক্ষককে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আইনুল হকের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার পর আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় কলেজে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক। 

বিএপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আইনুল হকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান সেখ। গত ১ নভেম্বর লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, চাহিদা অনুসারে চাঁদা না দেওয়ায় তাঁকে কর্মস্থলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও মিলছে না সমাধান। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। জীবনহানির শঙ্কায় ভুগছেন তিনি। 

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২০ সালে হাজী ওয়াহেদ মরিয়ম ডিগ্রি কলেজে যোগদানের পর ২০২৩ সালে তাঁকে বিএনপি সমর্থক দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদৌস সরকার শামীম চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সব আয়োজন করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও করেন শামীম। এখন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক তাঁকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বানানোর চেষ্টা করে একইভাবে হয়রানি করছেন। কলেজে যোগদান করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনুল হক বিভিন্ন সময়ে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন এবং বারবারই আশা দিয়ে এসেছেন যোগদান করাবেন। এখন তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। বিষয়টি বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাকে অবহিত করা হলে তারা কলেজে যোগদান করাতে আইনুল হককে সুপারিশ করেন। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আইনুল হক। 

লুৎফর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রসাশকের কাছে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সিরাজগঞ্জ জেলা আর্মি ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়েছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার বেতন ছাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তবে বর্তমানে বিধিবহির্ভূতভাবে আমার কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আমিনুল ইসলাম (সহকারী অধ্যাপক) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর সঙ্গে আইনুল হক যোগসাজশ করে আমার বেতন ছাড় ও যোগদান করতে বাধা প্রদান করছেন। এমনকি আমার অফিসে তালা দিয়ে রেখেছেন। আইনুল হকের নির্দেশে আমাকে কলেজে ঢুকে কেরানির কক্ষে বসে থাকতে বলা হয়। আইনুল হকের ভাতিজা বর্তমানে কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও ফোন রিসিভ করেন না এবং আমাকে কলেজে যেতে নিষেধ করেন। বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। সন্তান ও পরিবারের মুখে খাবার দিতে পারছি না।’

এদিকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আইনুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যসহ বেশ কিছু কারণে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁকে তিন মাসের জন্য সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। 

এ বিষয়ে আইনুল হক একটি গণমাধ্যমকে  বলেন, ‘ওই কলেজ শিক্ষক যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি কোনো চাঁদা নিইনি এবং চাঁদা দাবিও করিনি। কলেজের অন্য শিক্ষকরা তাঁকে পছন্দ করেন না। এতে আমার কী করার আছে?’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার