Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

পদাবনতির ১৩ দিন পর এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম

পদাবনতির ১৩ দিন পর এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রথম সারির নেতা সামান্তা শারমিন। গত ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল। পদাবনতির ১৩ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের বিষয়টি জানান সামান্তা শারমিন। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম, জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’

পোস্টে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও দলের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। সামান্তা লেখেন, গত ১১ মাসে এনসিপির অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সুযোগ পেলেই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, সংগঠনে নানা চড়াই-উতরাই থাকে। দল ভুল পথে গেলে তা থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা তার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই দায়িত্ব পালনে তিনি এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক বছরের সেই সংগ্রামের ইতি টানছেন, কারণ এনসিপির পক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক থাকা সম্ভব বলে মনে করেন না তিনি।

পদত্যাগের সময় নিয়ে সামান্তা লেখেন, কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে পদত্যাগের বিষয়টি সহজে মূল্যায়ন করা যাবে—এমন সময়ের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তার মতে, সেই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের মতো সিদ্ধান্ত নিলেও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি আরও লেখেন, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনো রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সহায়ক হবে না; বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে। দলের সঙ্গে এতদিনের মতপার্থক্য ও আলোচনার বিষয়গুলো দলের সদস্য এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন
গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ২১৭ সদস্যের আগের কমিটি ছোট করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়। পুনর্গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন বহাল থাকেন। তবে বিলুপ্ত করা হয় মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদ। এর পরিবর্তে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করা হয়।

নতুন কমিটিতে কয়েকজন নেতার পদোন্নতি হলেও কয়েকজনের পদাবনতি ঘটে। সামান্তা শারমিনকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পাশাপাশি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদ থেকেও তাকে বাদ দেওয়া হয়।

পুনর্গঠিত কমিটিতে আরিফুল ইসলাম আদীবকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্ষদে তার অবস্থান বহাল রয়েছে। আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভাকে নতুন কমিটিতে যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
এনসিপির পক্ষ থেকে এসব পদাবনতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে দলীয় একটি সূত্রের দাবি, নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বিলুপ্ত হওয়ায় নেতৃত্বে সমন্বয় আনতে এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।

এদিকে সামান্তা শারমিনের দলীয় কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয়তা কম ছিল। জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে মতপার্থক্যের পাশাপাশি পারিবারিক কারণেও তিনি সংগঠনকে কম সময় দিতে পারছিলেন বলে জানা গেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে স্বামীর অসুস্থতার কথা জানিয়ে সামান্তা লিখেছিলেন, ‘আগে একদিন বলেছিলাম আমার পরিবারের একজন ভীষণ অসুস্থ। তিনি আমার প্রিয়তম স্বামী। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। ওনার চিকিৎসা চলমান আছে।’

উল্লেখ্য, ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদের তালিকাও প্রকাশ করে এনসিপি। রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার