বিজ্ঞাপন
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানালেন রাশেদ খাঁন
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ এএম
বিজ্ঞাপন
‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার একটি কপি ছিঁড়ে সামাজিক যোগাযোগ আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি করেছেন রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকের লাইভে এসে তিনি পত্রিকাটি ছিঁড়ে ফেলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, রাশেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে পত্রিকার কপি ছিঁড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ দুই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এইটাকে (দৈনিক আমার দেশ) আসলে কোনো পত্রিকা বলা যায় না। আমার দেশ পত্রিকা আমাকে নিয়ে দুইটা লিড নিউজ করেছে। গত ১৫ অক্টোবর। আমার দেশ পত্রিকার লিড নিউজ ছিল ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?’ এখানে মোটামুটি সবার সম্পর্কেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমি এই সংবাদ পড়তে গিয়ে যেটি বুঝলাম, আমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যেই এই পত্রিকায় লিড নিউজ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পত্রিকার পঞ্চম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খান বিভিন্ন টিভি টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে সরব ভূমিকা পালন করেন। তার কিছু কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে। অর্থাৎ, এই এক লাইন আমার সম্পর্কে লেখার জন্য আমার দেশ পত্রিকার অনেক কালি খরচ করতে হয়েছে। শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে তো লিড নিউজ করা যায় না। সুতরাং ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সহকারীরা কী করছেন?’ এই শিরোনামে তারা একটি প্রকাশ করেছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, শনিবার (৩১ অক্টোবর) আমার দেশে ‘এক হয়েছেন হাসিনাপুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দেখেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। একই পত্রিকা কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধরনের কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে পারে না। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব এ ধরনের মন্তব্য করা।
তিনি আরও বলেন, আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পেরে, আমার বক্তব্যের সঠিক জবাব দিতে না পেরে, একের পর এক এই যে জামায়াতের দেশ, এটাকে আমি আর আমার দেশ বলতে চাই না। এই জামায়াতের দেশ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে লিড নিউজ করে চরিত্রহনন করা হচ্ছে। এখানে শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে আমি ২০১৮ সালে জেল খেটেছিলাম। আমি টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। অতিরিক্ত আরও তিন দিন আমাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার ছবি যুক্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ জানান তিনি।
তিনি বলেন, এই মজলুম সাংবাদিক বা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল। তিনিও আওয়ামী লীগের সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন মজলুম হয়ে যে রাশেদ খান ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলো, মজলুম হলো, তাকে নিয়ে এইভাবে ট্যাগিং করা অন্তত মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ পত্রিকার সঙ্গে যায় না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।