Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

‘যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, সে দলের লোকজনই আমাকে লাথি মারলো’

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

‘যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, সে দলের লোকজনই আমাকে লাথি মারলো’

বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে জামিন দেন।

জামিন পাওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সেই একইরকম অনুভূতি প্রকাশ করে সাথী আক্তার বলেন, ‘যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, সে দলের লোকজনই আমাকে লাথি মারলো।’

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি জড়িত বলে জানান তিনি। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সাথী আক্তার বলেন, কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন সময় ময়মনসিংহে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলাম। নেত্রীর সুস্থতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনে স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সাহেবের সারিতেই প্রথম দিকে অংশ নিয়েছিলাম। এমনকি নির্বাচনে নিজে ভোট দেওয়া ছাড়াও অন্যদের ভোটকেন্দ্রে এনে ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে ভোট চেয়েছিলাম।

এরপর তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, আজ তাদের লোকজনই আমার গায়ে হাত তুলল এবং লাথি মারল। যা অত্যন্ত কষ্টের।’

ক্ষোভের স্মৃতিচারণ করে এ নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘এক কয়েল তারের দাম ১২ হাজার টাকা। আমার চার কয়েল তারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে বলিনি, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বারবার চুরির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ থেকে লাইভটি করেছিলাম।’

সাথী আক্তারের অভিযোগ, লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা ১১টা-১২টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পনা করে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার শোরুমের সামনে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তারা গালিগালাজ শুরু করলে সাথী তা নিজের মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করেন। বিকেল ৪টার দিকে ‘ইব্রাহিম’ নামের এক নেতার নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে সেদিন রাত ১০টার দিকে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও বিশ্রামে নেওয়ার প্রয়োজন - জানান এই নারী উদ্যোক্তা। বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুস্থ হওয়ার পর এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও বিস্তারিত সংবাদমাধ্যমকে জানাব।

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

সম্প্রতি ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিও দুটিতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার