বিজ্ঞাপন
এনসিপির নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ৩ নেতার পদাবনতি, নেপথ্যে কী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক কমিটিতে রদবদল আনা হয়েছে। ২১৭ সদস্যের কমিটি ছোট করে ১৯৬ সদস্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকলেও বিলুপ্ত করা হয়েছে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো পদ। এর পরিবর্তে সৃষ্টি করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদ।
পুনর্গঠিত কমিটিতে কয়েকজন নেতার পদোন্নতি হয়েছে, আবার কয়েকজনের পদাবনতি ঘটেছে। বাদ পড়েছেন আগের কমিটির কয়েকজন নেতা।
জুলাই অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) প্রথম সারির নেতা। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে এনসিপি ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এনসিপির এই নেত্রীর পদাবনতি হয়েছে বলা যায়। তাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পরিষদ থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নতুন কমিটিতে আরিফুল ইসলাম আদীবেরও পদাবনতি হয়েছে। আগের কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে থাকলেও পুনর্গঠিত কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে দলের রাজনৈতিক পরিষদে তার অবস্থান বহাল রয়েছে।
এসব পদাবনতির সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি এনসিপি। তবে একটি সূত্র বলছে—নেতাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পারফরমেন্স, কিছু পদ বিলুপ্ত হওয়ায় প্রভাবশালীদের শীর্ষস্থানে রাখতে এসব সমন্বয় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগে কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। কিন্তু এই পদ বিলুপ্ত করায় তাদের একোমোডেশনের স্বার্থে অন্যদের পদাবনতি দেওয়া হয়েছে।
সামান্তা শারমিন রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে। তিনি পরিবারকে বেশি সময় দিচ্ছেন। কিছুদিন আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্বামী অসুস্থ তার চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। এ কারণে সংগঠনকে কম সময় দিতে পারছেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আগে একদিন বলেছিলাম আমার পরিবারের একজন ভীষণ অসুস্থ। তিনি আমার প্রিয়তম স্বামী। আমি আমার পারিবারিক জীবন সম্পূর্ণ আলোচ্যসূচির বাইরে রাখার পক্ষে, সেজন্যই আগের পোস্টে বলিনি। ওনার চিকিৎসা চলমান আছে।’
স্বামীর অসুস্থতার কারণে মানসিক কষ্টের কথাও তুলে ধরেন সামান্তা। তিনি বলেন, একজন উদ্যমী, কর্মঠ ও তরুণ মানুষকে গত তিন মাস ধরে এভাবে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা অনেক যন্ত্রণার।
সামান্তা শারমিন আরও লেখেন, সর্বজ্ঞানী ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ বিভিন্নভাবে বান্দাকে পাপমুক্ত করেন অথবা পরীক্ষা করেন। এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘আল্লাহ আমাদের মাফ করেন, হেদায়েত দান করেন। আল্লাহ আপনি ছাড়া আমরা শূন্য’।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আরিফুল ইসলাম আদীব এনসিপির রাজনীতিতে এখন কিছুটা ব্যাকফুটে। তিনি গত নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে ভোট করে পরাজিত হন। এরপর তিনি ঢাকা উত্তরে এনসিপির মেয়র পদে প্রার্থী হন। সম্প্রতি দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদ।
এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদিবের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি জানান, এক সহকর্মীর বাবাকে দেখতে হাসপাতালে আছেন।