Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

ইংলিশ মিডিয়াম শেষ করে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা

৩৯ বছর বয়সী ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনে কী আছে?

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

৩৯ বছর বয়সী ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনে কী আছে?

বিজ্ঞাপন

বিএনপির রাজনীতিতে পারিবারিক ঐতিহ্য, যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা, পুরান ঢাকায় রাজনৈতিক সক্রিয়তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়—সব মিলিয়ে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পথচলা নানা ঘটনা ও আলোচনায় পরিপূর্ণ। প্রয়াত বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। তবে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল। বাবা সাদেক হোসেন খোকা এবং মা ইসমত আরা। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ইশরাকের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। তিনি ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে ভর্তি হন। সেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

২০১১ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর কিছু সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন ইশরাক। এ সময় দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় মোটরগাড়ি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন তার বাবা সাদেক হোসেন খোকা। তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করেই ইশরাক সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।

সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে। ওই নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেন। পরে বিএনপি সরকারে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মৎস্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। এর আগে ও পরে ঢাকার রাজনীতিতে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বাবার মৃত্যুর পর পুরান ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাকের সক্রিয়তা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তিনি বিএনপির নগর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ইশরাক হোসেন বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক হন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২২ সালে শেখ হাসিনার আমলে মামলায় আদালতে ইশরাক হোসন

ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ইশরাক শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। নাশকতার মামলায় তাকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আন্দোলনে সক্রিয় হন তিনি। বিভিন্ন সময়ে পুলিশি হামলায় তার আহত হওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।

বাবার মৃত্যুর পর পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে ইশরাকের তৎপরতা বাড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি তরুণ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিতি পান। একপর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়াই ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বিপরীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন। নির্বাচনে তাপস চার লাখ ২৪ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ইশরাক পান দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট।

নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে বিএনপি। ইশরাকের অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে ফলাফল জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। নির্বাচনের এক মাসের মাথায়, ২০২০ সালের ৩ মার্চ ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন ইশরাক। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তিনি নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করেন। মামলায় শেখ ফজলে নূর তাপস, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে রায় দেন। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বৈধতাও বাতিল করা হয়। এরপর ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চেয়ে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন চিঠি দেয়। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত আসার আগেই রবিবার রাতে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত সংশোধিত গেজেটে শেখ ফজলে নূর তাপসের পরিবর্তে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও অপসারিত হন। পরে ওই পদে একজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর ইশরাকের মেয়র পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। উপনির্বাচন না দিয়ে আদালতের রায় ও সংশোধিত গেজেটের ভিত্তিতে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করায় তিনি কতদিন মেয়রের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। তবে মেয়র হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের প্রশ্নটি প্রশাসনিক ও আইনি আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন ইশরাক হোসেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। নির্বাচনে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক। পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পুরান ঢাকার রাজনীতি থেকে জাতীয় সংসদ এবং সেখান থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া তার রাজনৈতিক পথচলার বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থেমে থাকেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে, ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নেন ইশরাক। ওই আলোচনায় বিরোধী দলকে পতনের বিষয়ে তার বক্তব্য নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আপনারা (বিরোধী দল) যদি আমাদেরকে পতন করার হুমকি দেন, তাহলে বিরোধী দলের অবস্থান থেকে আপনাদেরকেই পতন ঘটানো হবে ইনশাল্লাহ।’

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনায় এসেছেন ইশরাক হোসেন। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে তার বাগদান সম্পন্ন হয়। পরে তিনি ব্যারিস্টার নুসরাত খানকে বিয়ে করেন। নুসরাত খান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য ও টাঙ্গাইলের সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদ খানের বড় মেয়ে। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়া গ্রামে।

২০২২ সালে মামলায় কারাগারে ইশরাক

রাজনৈতিক জীবনের সাম্প্রতিক সময়ে এসে নতুন বিতর্কে জড়ান ইশরাক হোসেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন তিনি। এ সময় হাতে পিস্তল নিয়ে লোকজনকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে ইশরাককে অস্ত্র উঁচিয়ে লোকজনকে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশ্ন ওঠে, ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকলেই প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যায় কি না। একই সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রী নিজে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।

ইশরাকের তথ্য অনুযায়ী, তিনি রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে গুলির আশঙ্কা এবং তাদের মোটরবহরের দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দলের আগ্রাসীভাবে এগিয়ে আসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন তিনি ও তার নিরাপত্তাকর্মীরা সাময়িকভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন বলে দাবি করেন তিনি। নিজের অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং আত্মরক্ষার জন্যই সেটি ব্যবহার করেছেন।

ইশরাক আরও দাবি করেন, ওই অভিযানে চার থেকে পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে মাদক, অস্ত্র, নগদ টাকা ও চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি। তার অভিযোগ, গণমাধ্যমে ঘটনার আংশিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার ভিডিও প্রকাশের পর তার কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান। আইনের ব্যত্যয় হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) ইশরাক হোসেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ডেকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে অসন্তোষ প্রকাশ এবং একটি খসড়া পদত্যাগপত্র দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন ইশরাক। রবিবার রাতে তিনি পদত্যাগের খবরকে গুজব বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এর কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত নেই। এরকম যদি কোনো সিদ্ধান্ত আমরা দল থেকে নিই, তাহলে আপনাদের জানানো হবে।’

২০২১ সালে কর্মীকে পুলিশের গ্রেপ্তার থেকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন ইশরাক

এর কিছুক্ষণ পর তার প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠান। সেখানে ইশরাকের পদত্যাগের খবরকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাই পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠে না।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান। ফলে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও নানা আলোচনা তৈরি হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনেও এ-সংক্রান্ত খবর প্রচারিত হয় বলে ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।

রবিবার রাতে পদত্যাগের খবর অস্বীকার করলেও পরদিন সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিন্ন বার্তা দেন ইশরাক হোসেন। সোমবার, ১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে আটটার দিকে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ। ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার