বিজ্ঞাপন
দলীয় সংসদ সদস্যদের ৬ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
বিজ্ঞাপন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও অপকর্ম রোধ, চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, দুর্গাপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোসহ দলীয় সংসদ সদস্যদের বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। পতিত স্বৈরাচার ও গুপ্ত শক্তি একসঙ্গে হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ সভায় বিএনপির ১৯৪ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
সভা সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সভায় খোলামেলা আলোচনা করেন অন্তত ২৫ জন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, শারদীয় দুর্গাপূজা, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলীয় সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে তারা মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরাও আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা অপতৎপরতা চলছে। পতিত স্বৈরাচার ও গুপ্ত শক্তি একসঙ্গে হতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
এতে সামনে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সজাগ, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে হবে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় তো বলে-কয়ে যায়নি, বলে-কয়ে আসবেও না। তবে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি আসতে চাইলে আসুক, আইনি এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ মনে করায় এবার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন।
অতীতে হয়তো তারা অন্য একটি দলকে ভোট দিতেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যাতে নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের জন্য ‘বড় পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি, এমন অপবাদ সরকার নেবে না। এ জন্য তৃণমূলের সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রার্থী করতে হবে।
দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তবে দলের সমর্থন পেলেও প্রার্থীকে নিজের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই জয়ী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাবে না।
সভায় সংসদ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া, মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জবাবে তারেক রহমান বলেন, সরকারকে শুরু থেকেই অনেক বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।