বিজ্ঞাপন
বিএনপির সিদ্ধান্ত ছিল আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া
রুমিন ফারহানা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পেছনে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার ভাষ্য, দলটির সিদ্ধান্ত ছিল তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
টকশোতে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির সিদ্ধান্তটা ছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার।’ দীর্ঘদিন বিএনপির হয়ে রাজনীতি ও দলটির পক্ষে কথা বলার পর কেন তার প্রতি দলের এমন অবস্থান তৈরি হলো—উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির উদাহরণ টানেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিকে যদি তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজের চেয়ে বেশি মেধাবী বা দক্ষ মনে করেন, তাহলে সেখান থেকে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনা নিয়ে প্রায় সাত মাস পার হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কথা বলে আসছেন। তার অভিযোগ, বিএনপি হয়তো তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রেখে দিতে চাইত, কিন্তু সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে চাইত না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, গত আট থেকে নয় বছর ধরে তিনি ওই এলাকায় কাজ করেছেন। এলাকার মানুষের মনোভাব ও চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে কথা না বলে কিংবা এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি না বুঝে নিজের পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে ফেলার সিদ্ধান্ত নেননি। বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, তিনি একসময় বিএনপির রাজনীতি করেছেন বলেই দলকে তার মেধা ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
টকশোতে উপস্থাপক রুমিন ফারহানাকে স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর তিনি বলেছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার ওপর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তা পালন করবেন। এ সময় উপস্থাপক জানতে চান, বিএনপির স্বার্থ রক্ষা করাও সেই দায়িত্বের অংশ কি না।
জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপির বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আলোকে দেশের স্বার্থকে সবার আগে বিবেচনা করা উচিত বলেই তিনি মনে করেন। তিনি দাবি করেন, সেই বিবেচনা থেকেই নিজের অবস্থান নির্ধারণ করছেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কারণে রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে দলীয় শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থি হিসেবে বিবেচনা করে বিএনপি তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়।
বহিষ্কারের পর থেকে বিএনপির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং দলটির সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়ে আসছেন রুমিন ফারহানা। সর্বশেষ টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি আবারও দাবি করেন, বিএনপির সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়া।