Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

কারাগার না প্রটোকল, কোন পথে ফিরছেন শেখ হাসিনা!

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

কারাগার না প্রটোকল, কোন পথে ফিরছেন শেখ হাসিনা!

বিজ্ঞাপন

দুই দশমিক শূন্য ফিরে আসার অন্তরালে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তারিখ ঘিরে নানা আলোচনা চলছে। ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন, না যাত্রাভঙ্গ—সেই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ফিরবেন আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এমন কথাই বলছে বিভিন্ন সূত্র।

শেখ হাসিনার ফেরাটা আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও ফেরার প্রাথমিক পথ তৈরি হয়েছে দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বরে। আর চূড়ান্ত রূপরেখার গণনা শুরু হয়েছে দুই হাজার ছাব্বিশ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সাধারণ হিসাবে দুই আর দুই চার হলেও রাজনীতির হিসাবে আওয়ামী লীগ মিলাচ্ছে বাইশ। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে পারেনি চব্বিশ-পরবর্তী পটভূমি। কিন্তু চব্বিশের আন্দোলন ছিল আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেওয়ার সুপরিকল্পিত উদ্যোগ। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা বিদেশের মাটিতে অনেকটা গর্ব করেই বলেছিলেন, শেখ হাসিনার পতন ছিল সুপরিকল্পিত নকশার একটি অংশ। আর তার নকশার মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনূস অনেকটা তড়িঘড়ি করেই নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। সেই সময়টা অনেকের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়েছে, কারণ অনেকেই ধরেই নিয়েছিলেন অন্তত দুই হাজার সাতাশ সাল পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকবে। পঁচিশে ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার পর যে নিরাপত্তা ও প্রটোকল তিনি পেয়েছিলেন, তার মধ্য দিয়ে তারুণ্য ও নতুন বাংলাদেশের বার্তা এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে জামায়াতের আমিরও তাঁর মতো করেই প্রটোকল পেয়েছেন।

সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় ছিল একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের এবং জনগণের সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে সেই আশায়। ভোট হলো, জনগণের সরকার দায়িত্ব নিল রাষ্ট্র পরিচালনার। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রশ্ন তুলল আওয়ামী লীগের ভোটের দিকে। তাদের অভিযোগ, বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং কারচুপির মাধ্যমে জয় লাভ করেছে। যদিও বিএনপি তাদের এই দাবিকে রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। সূত্র বলছে, সেই সময়ে আওয়ামী লীগের সমর্থক বা একটি বড় ভোটব্যাংক বিএনপির ঝুলিতেই গেছে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোটাররা বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে।

যখনই বলা হয়েছে আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নেই, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, তখনই আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আরও প্রাসঙ্গিক হয়েছে। সাধারণ মানুষের আবেগের ওপর ভর করেই রাজনীতিবিদদের রাজনীতি। সাধারণ মানুষ যেটাকে দেখে ছয়, রাজনীতিবিদরা সেটাকে দেখে নয় হিসেবে। ছয় এবং নয়ের মাঝে পার্থক্য হয়ে যায় তিন। এই তিনের হিসাবেই ঘুরছে এখনকার রাজনীতি।

ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে একটি দিন বর্তমান সরকার নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে স্বয়ং বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই। একটি যুক্তিগত আলোচনার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সরকারকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোট নানা ইস্যুতে সংসদ এবং সংসদের বাইরে চাপে রাখার চেষ্টা করে চলছে। সদ্য ছাত্রত্ব শেষ করে আসা তরুণরা বিএনপির বাঘা বাঘা নেতাদেরকে বাঘ আর মহিষের মতো এক ঘাটে জল খাইয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদের আবার এক কাতারেই ফিরে আসতে দেখা গেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বকে চাপে রাখতে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ধারাবাহিক ককটেল হামলা, গাড়িতে আগুন, ট্রেনে আগুনসহ নানা তৎপরতা চালায়। এরই মাঝে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী দাবি করেন, বিএনপি সরকার যদি তাদের দাবিগুলো মেনে নেয়, তাহলে দেশের কোথাও আর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটবে না। তাঁর এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে জানানো হয়, এ বিষয়ে প্রয়োজনে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জামায়াতের নেতৃত্বে একের পর এক আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। বিএনপি অনেকটা দিশেহারা হয়ে কঠোর অবস্থানে চলে যায়। জামায়াতের নেতৃত্বে লং মার্চ, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষোভ। আবার প্রশাসনের অনেকের বেফাঁস মন্তব্য সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।

ডিসেম্বরে কি শেখ হাসিনা ফিরবেন এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র। যে প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছেন, আদৌ কি সেই প্রেক্ষাপট এখন বাংলাদেশে বিরাজ করছে এই প্রশ্নে পঁয়ত্রিশ জন মানুষকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এর ভেতরে প্রায় বাইশ জন মানুষই শেখ হাসিনার ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছে, বাকি মানুষগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরবেন কি ফিরবেন না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সূত্র বলছে, তিনি ফিরবেন। তাঁর ফেরার অন্তরালে আন্তর্জাতিক শক্তির পাশাপাশি দেশের অনেক কাঠামো কাজ করছে বলে ধারণা রয়েছে।

শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে সেনাবাহিনীর ভেতরেও কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা যায়। প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন সরাসরি দাবি করেছেন যে বর্তমান সেনাপ্রধানই শেখ হাসিনাকে ফেরাবেন। এবং তাঁর একটি চৌকস দল কাজ করছে ফেরানোর পক্ষে এমনটাই দাবি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের। ভারত সরাসরি শেখ হাসিনার ফেরার পথে সহযোগী হিসেবে কাজ করবে বলে সূত্র বলছে। শেখ হাসিনা যদি কোনোভাবে ফিরে আসেন, তাহলে কি তাঁকে রায় মেনে ফাঁসিতে ঝুলতে হবে? এখানে রায়ের চেয়ে রাজনীতিটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ক্ষমতা চলমান রাখা, অন্যদিকে একটি মহাপ্রলয় হওয়ার হাতছানি। কী হতে পারে? সাধারণ মানুষ কি আরেকটি রাজনৈতিক পটভূমির সাক্ষী হবে, নাকি তারাই সিদ্ধান্ত নেবে কোন পথে যাবে বাংলাদেশ?

সূত্র বলছে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি অংশ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছে। আর ক্ষমতাসীন বিএনপির একটি অংশ ভারতকে ম্যানেজ করে সমঝোতার পথ বা ক্ষমতার নিশ্চয়তা চাচ্ছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু প্রচারণা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন বলেই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে সবাইকে মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপর রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা আইনের ব্যত্যয় না ঘটে, এজন্য তৎপর রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা কি নীরবেই ফিরবেন, কোন পথে ফিরবেন? তিনি সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার বা বিমানে ফিরবেন নানা প্রশ্ন থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে, শেখ হাসিনা ফিরবেন টর্নেডোর মতো। সূত্র বলছে, শেখ হাসিনার ফেরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সব সময় বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। বিভিন্ন ইউনিট কমিটির মাধ্যমে ত্যাগীদের সামনে নিয়ে এসে আন্দোলনের দল করছে আওয়ামী লীগ।

এদিকে প্রশাসনের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের জন্য অপেক্ষা করছে। কেন প্রশাসনের অপেক্ষা শেখ হাসিনার ফেরার জন্য? কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আর আগের মতো সম্মান পায় না। এলাকার চিহ্নিত অপরাধীকে ধরলেও অনেক বড় নেতার হুমকির মুখে পড়তে হয়। তাদের দাবি, আমরা সরকারের নির্দেশনা অবশ্যই মানতে বদ্ধপরিকর। তবে আমাদের পরিবার আছে, সম্মান আছে এটার নিশ্চয়তাও দরকার।

কী ঘটতে পারে? শেখ হাসিনা ফিরবেন একটি নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। অনেক আয়োজন হলেও শেখ হাসিনা নীরবে কারাবরণ করতে পারেন, অথবা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ফিরতে পারেন। আবার আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ফিরতে পারেন, আবার সমঝোতার মাধ্যমেও ফিরতে পারেন। তবে তিনি ফিরবেন এমনটাই বলছে তাঁর সমর্থকরা।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার