Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

মিষ্টির শূন্য আসনে ‘সেলিব্রিটি ফেস’ খুঁজছে বিএনপি?

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম

মিষ্টির শূন্য আসনে ‘সেলিব্রিটি ফেস’ খুঁজছে বিএনপি?

বিজ্ঞাপন

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এ শুধু দলীয় পদ-পদবি বিবেচনায় না রেখে সংসদে ‘পরিচিত মুখ’ আনার কথা ভাবছে বিএনপির একটি অংশ।

দলীয় সূত্রের দাবি, সংসদে রাজনৈতিক বক্তব্য, বিতর্ক ও গণমাধ্যমে উপস্থিতির দিক থেকে পরিচিত এবং দলের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম এমন কাউকে প্রার্থী করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখও বিবেচনায় আসতে পারেন।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচনা হচ্ছে, তাদের কাউকেই বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেয়নি। এমনকি দলীয়ভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

আলোচনায় যাদের নাম

মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের বড় মেয়ে নওশিন খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি বিশ্বব্যাংকে কর্মরত।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নামও আলোচনায় রয়েছে। একইভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী এবং দলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আশরাফী পাপিয়ার নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরছে।

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আলীর স্ত্রী ডা. রাবেয়া আক্তারের নামও আলোচনায় এসেছে।

তবে শুধু রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নেই। দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রীদের কয়েকজনের নামও রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।

তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন এবং সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদা মনির নাম রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা কাজী রেহা কবির সিগমার নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয়ভাবে আবেদন গ্রহণের সুযোগ এলে তার পক্ষ থেকেও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন ও সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

গণমাধ্যমের পরিচিত মুখও বিবেচনায়?

মিষ্টির আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিনের নামও এসেছে।

সাংবাদিক ও উপস্থাপক কাজী জেসিন বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক। চলতি বছরের আগস্টে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক গ্রেড-১ পদমর্যাদায় বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দলীয় সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়া, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া এবং গণমাধ্যমে পরিচিত এমন কাউকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত হলে পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত মুখও বিবেচনায় আসতে পারেন।

দলের একটি সূত্র বলছে, সংসদে বিএনপির পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলতে পারবেন এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে দলের একটি অংশের মধ্যে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার মতো পরিচিত রাজনৈতিক বক্তার সঙ্গে সংসদীয় বিতর্কে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন এমন মুখের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় রয়েছে বলে সূত্রটির দাবি।

তবে এই আলোচনা এখনো দলীয় সিদ্ধান্তে রূপ নেয়নি।

যে কারণে শূন্য হলো আসনটি

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিষ্টির নাম আলোচনায় আসার পর তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে সেখানে ঢুকে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। পাকা ভবনের কয়েকটি কক্ষের জানালা-দরজাও ভাঙচুর করা হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আসবাব, ওষুধ, আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম আসে। শাহআলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে জানা যায়।

রাড্ডা সেন্টারের জায়গা নিয়ে আলোচনায় আসা সমিতিটির সঙ্গেও মিষ্টির পুরোনো সম্পৃক্ততার তথ্য সামনে আসে। ২০০৬ সালে শাহআলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে করা আবেদনে তার স্বাক্ষর ছিল।

তবে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। তার দাবি, ওই সমিতির সঙ্গে বর্তমানে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং হামলার ঘটনায়ও তার কোনো হাত নেই।

ঘটনার পর বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে গুরুত্ব পায়। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

গত ১ অক্টোবর স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন মিষ্টি। পদত্যাগপত্রে তিনি ‘সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায়’ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের কথা জানান। তবে এর কারণ উল্লেখ করেননি।

সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তার পদত্যাগের দিন থেকেই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়েছে।

‘এ ব্যাপারে এখনো আলোচনা হয়নি’

শূন্য হওয়া আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনো আলোচনা হয়নি।’

ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলের ভেতরে নানা আলোচনা থাকলেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো কাউকে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে মিষ্টির বিদায়ে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এখন বিএনপির ভেতরে নতুন মনোনয়ন-সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দু। আলোচনায় থাকা নামগুলোতে যেমন রয়েছে দলের শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্য, তেমনি রয়েছে মহিলা দল ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ।

এখন প্রশ্ন, মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনে দল কি দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক রাজনীতিতে থাকা কোনো নারী নেত্রীকে বেছে নেবে, নাকি সংসদে দলের হয়ে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন কোনো ‘পরিচিত মুখ’কে সামনে আনবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার