বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে হাসনাতের যত অভিযোগ
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
বিজ্ঞাপন
বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে লেখেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় ২০০৮ সালে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। সমসাময়িক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে ১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ঘুষের অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
এ ছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় একই বছর তাকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় ১০ বছর অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তিন বছর সম্পদের তথ্য গোপনের জন্য সাজা দেওয়া হয়েছিল। আদালত ৪ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৮ টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেন।
হাসনাত তার পোস্টে আরও দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে চকরিয়ায় মাছের ঘের দখলসংক্রান্ত দুটি মামলাও ছিল। এসব মামলা থেকে পরে তিনি খালাস পান বলে উল্লেখ করেন হাসনাত।
এরপর বিএনপি সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত প্রশ্ন তোলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে বিষয়টি উদ্বেগের। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে এমপি-মন্ত্রীদের হিসাবও তলব করা উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। পোস্টে তিনি দাবি করে লেখেন, প্রায় ২০ বছর আগে সালাউদ্দিন আহমেদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। উনার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন।
নির্বাচনী হলফনামার বরাত দিয়ে হাসনাত দাবি করেন, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের মোট সম্পদ ছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এত সম্পদের উৎস কী?’
সালাহউদ্দিন আহমেদের সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আরও প্রশ্ন করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে রাজনীতিতে আসার পর এবং পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রী থাকার সময়ে কীভাবে তার সম্পদ এত বেড়েছে।
সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তিনি বলেন, সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকার, কতটা বিনিয়োগ বা অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে—তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
পোস্টের শেষ দিকে হাসনাত বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক।’
এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলবের দাবি জানান তিনি। নিজের হিসাব দিয়ে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বানও জানান এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমাকে দিয়েই তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহনের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!’