Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের জন্য দুঃসংবাদ

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতাদের জন্য দুঃসংবাদ

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের অনেকেই দলে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা মনে করছেন সবুজ সংকেত পেলেই দলে ফিরতে পারবেন তারা। তবে তাদের জন্য স্বস্তির কোনো খবর নেই। আপাতত দলে ফিরতে পারছেন না তারা। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি দলের দলের হাইকমান্ডে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি।

এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, যারা গত নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করেছে দলে আর তাদের ঠাঁই হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যারা দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শত শত আবেদন জমা পড়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনায় নেতারা তাদের আবেদনে উল্লেখ করছেন যে, তৎকালীন বিশেষ পরিস্থিতি বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েছিলেন। তারা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাচ্ছেন।

জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিপুলসংখ্যক নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখন সংসদ সদস্যও হয়েছেন। বহিষ্কৃত নেতাদের একটি অংশ দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের নিয়ে দলের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রথম দিকে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ১১৭টি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন অন্তত ১৯০ জন বিএনপি নেতা। পরবর্তীতে দলীয় নির্দেশনা মেনে বেশিরভাগ নেতা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে দলের কঠোর অবস্থান মানেননি অনেক হেভিওয়েট নেতা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে লড়েন। ফলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করে বিএনপি।

এমনকি বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের সহস্রাধিক নেতাকর্মীকেও বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা ৭৮টি আসনের মধ্যে ২১টি আসনে জয় পান জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের প্রার্থীরা। আর বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হন মাত্র সাতটি আসনে।

জানা গেছে, এই সাতজন এমপির মধ্যে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বাদে সবাই দলে সপদে ফিরতে চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে ভুল স্বীকার করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছেন। বহিষ্কৃত হওয়ার পরও অনেকে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির কর্মসূচি পালন করছেন।

সংসদ নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে প্রচার চালানোর কারণে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ দুলালকে বহিষ্কার করা হয়। তবে নির্বাচনের আগে সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ধানের শীষের প্রার্থী দীপু ভূঁইয়াকে সমর্থন দেন। পরবর্তীতে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে ঢাকা-৭ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয় যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন ইসহাক সরকার।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়ে মাঠ চষে বেড়ালেও শেষ মুহূর্তে আসনটি মিত্র দলকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। দলের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়েন এবং বহিষ্কৃত হন। নির্বাচনে পরাজিত হলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। সাইফুল আলম নীরব বলেন, ”আমি এখনও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। নেতাকর্মীদের নিয়ে এখনো কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত আমি বিএনপির রাজনীতিই করে যাব।”

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজও দলে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার ভাষ্য, দলে তিনি একাই ফিরতে চান না, তার সঙ্গে অন্তত ৮০ জন নেতা কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সকলেই ডেডিকেটেড, তারাও দলে ফিরতে চান। দলের সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাথে দলে ফেরার বিষয়ে কথা হয়েছে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন। তবে কবে কখন সেই বিষয়ে এখনো বলা যাচ্ছে না। তারা এখন পার্টির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে, একটু ফ্রি হলেই হয়তো সকলকে দলে ফিরিয়ে নেবেন আশাবাদী তিনি।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বহিষ্কৃত হয়েছেন। দলে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো দলের বাইরে যাইনি, আগে পদে ছিলাম আর এখন কর্মী হিসেবে কাজ করছি। দল যদি মনে করে আমাকে আবারও সাংগঠনিক কাজে লাগাবে, আমি যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করছি, দলের বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। দলের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়েন এবং বহিষ্কৃত হন। দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দল যদি সবুজ সংকেত দেয় তাহলে ফেরার জন্য আবেদন করবো, তা নাহলে করবো না। সারাজীবন বিএনপি করেছি এর বাইরে কোনো চিন্তা নেই। সামনে যেই রাজনীতি আসছে, তখন পরীক্ষিত নেতাদের সংকট দেখা দিবে।

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলে ফেরতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এবার বিএনপির চেয়ারম্যান খুবই কঠোর অবস্থানে আছেন। যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থী হয়েছেন তাদের শিগগিরই দলে ফেরানোর সম্ভাবনা নেই।

বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, যাদেরকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদেরকে আপাতত দলে ফেরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদেরকে দলের ফেরানো বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দলের ফেরানোর বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয় নি বলে জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার