বিজ্ঞাপন
ইউসুফ টিপুর পাশাপাশি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আশাবাদী সাক্কু-কায়সারও
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। মসজিদে নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন ও বিভিন্ন গণজমায়েতে তাদের উপস্থিতি বাড়ায় নগরীতে এরই মধ্যে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি দল গোছানোর কাজও করছেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন চাইতে পারেন।
এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হন তারা।
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দল এবং দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।
সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের কোনো লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে অনুযায়ী এগিয়ে যাব।
২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা থেকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।
২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।
২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৯ ভোট।
আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।