Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত, মাঠে এনসিপি

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি-জামায়াত, মাঠে এনসিপি

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পাশাপাশি নগরবাসীর নজরে আসতে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। 

মসজিদে নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন ও বিভিন্ন গণজমায়েতে তাদের উপস্থিতি বাড়ায় নগরীতে এরই মধ্যে নির্বাচনি আমেজ তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি দল গোছানোর কাজও করছেন। মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন চাইতে পারেন।

এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। গত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হন তারা।

নগরীতে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে এনসিপি কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি তিনি নগরীর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামতও তুলে ধরছেন।

কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দল এবং দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।

আরও পড়ুন
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।

সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের কোনো লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে অনুযায়ী এগিয়ে যাব।

মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, আমাদের দলে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দল যাকে সিদ্ধান্ত দেবে, তিনিই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। আপাতত আমরা সকলে মিলেমিশেই সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি।

এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সেবা করার জন্য আমি সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। মাঠে গণসংযোগ করে বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং সেতুবন্ধন তৈরি করছি। দল থেকে আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি, জোটের সমর্থনও পাব।

আগের নির্বাচনের ফল

২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা থেকে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান পেয়েছিলেন ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট।

২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা পেয়েছিলেন ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট।

২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ২৯ হাজার ২৯ ভোট।

আরও পড়ুন
আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।

আগের দুই নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির একাধিক প্রার্থী ও দলীয় বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এবার আওয়ামী লীগ না থাকায় কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, তা সময়ই বলে দেবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার