বিজ্ঞাপন
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসছেন তিন নতুন মুখ
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই দলের শীর্ষ পর্যায় ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীতে তিন নতুন মুখ আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভার্চ্যুয়াল সভায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে এই তিনজনের পদ নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বড় একটি অংশ বাদ পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই ছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভা। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ভার্চ্যুয়াল সভায় ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিভিন্ন দেশের নেতারা যুক্ত ছিলেন। হাসিনাসহ মোট ৩৭ জন নেতা সভায় অংশ নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সভায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত গোপন রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পনা গণমাধ্যমে ফাঁস করা কিংবা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। দলীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বাইরে সভার অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ না করতেও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রদবদলের অংশ হিসেবে নতুন তিন পদের জন্য শ ম রেজাউল করিম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট সূত্র।
যদিও নতুন মুখ খুব বেশি যুক্ত হচ্ছে না, তবে নিকট ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সদস্য বাদ পড়তে পারেন বলে জানান নেতারা।
শুক্রবারের সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্যকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; নিজ উদ্যোগে যুক্ত হতে চাওয়াদেরও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
গত দুই বছর ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা সদস্যদের বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেই এটিকে দেখছেন অনেকে। অনুপস্থিত জ্যেষ্ঠ নেতার সংখ্যা সম্পর্কে এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘লিস্টটি বেশ দীর্ঘ।’
সভায় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ করণীয় এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে ফেরার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্রুত দেশে ফিরে জনগণের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দেন হাসিনা। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে শুক্রবারে পূর্বঘোষিত নির্বাহী কমিটির সভা বাতিল হওয়ার গুজব ছড়ালেও নেতারা জানান, সভা বাতিল বা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না।
তারা জানান, ইউরোপ ও আমেরিকায় অবস্থানরত নেতাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের উদ্বেগের কারণে শেষ মুহূর্তে সশরীরের পরিবর্তে সভাটি ভার্চ্যুয়ালি করা হয় এবং সময়ও সমন্বয় করা হয়।