বিজ্ঞাপন
দিল্লিতে আ.লীগ নেতাদের ‘হাই লেভেল’ বৈঠক বাতিল, নেপথ্য কী
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৩ এএম
বিজ্ঞাপন
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নয়াদিল্লিতে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্ধারিত ‘হাই-লেভেল’ বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও এক দিন আগেই তা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা হোয়াটসঅ্যাপে সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ওয়াদা’কে বৈঠক বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ঠিক কী কারণে বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানানো হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ভারতের নয়াদিল্লির যে বাসভবনে অবস্থান করে আসছেন, সেখানেই আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
বৈঠকে যোগ দিতে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ইতোমধ্যেই নয়াদিল্লি পৌঁছেছিলেন। দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল এবং ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু তাদের এই স্বপ্ন আকস্মিক দুঃস্বপ্নে পরিণত হলো। ভারতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে সংবেদনশীলতা বাড়ার মধ্যেই বৈঠকটি বাতিলের খবর আসে।
এর আগে ২৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়। সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) জানিয়েছিল, দিল্লি পুলিশ ওই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি। তবে দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এফসিসির অনুষ্ঠানে পুলিশের হস্তক্ষেপের কথা অস্বীকার করেন।
পরে আওয়ামী লীগ জানায়, ওই অনুষ্ঠানটি দল আয়োজন বা স্পনসর করেনি। দলটির কোনো নেতা সেখানে অংশ নিয়ে থাকলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশ নিয়েছেন।
এর আগে ৫ আগস্ট একই ক্লাবে শেখ হাসিনার একটি মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং এটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
পরে ভারত জানায়, অনুষ্ঠানটির সঙ্গে দেশটির সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে বাংলাদেশের সরকার নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।