বিজ্ঞাপন
কোন পথে ফিরবেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের প্ল্যান এ-বি-সি
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
বিজ্ঞাপন
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে দেশে ফিরতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ নিয়ে প্ল্যান এ, বি, সি- এমন নানা রোডম্যাপ তৈরি করছে দলটি। তবে তার ফেরার সম্ভাব্য সময়, পথ ও কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দলটির নেতারা।
দলীয় সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে একাধিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিমান ও স্থলপথে দেশে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্ভাব্য কয়েকটি রুট নিয়েও দলের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে শেষ মুহূর্তে রুট নির্ধারণ করা হতে পারে।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরলে লং মার্চ কর্মসূচির কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। বেনাপোল দিয়ে তার দেশে ফেরা হলে ‘লং মার্চ টু টুঙ্গিপাড়া’কর্মসূচিতে সারা দেশের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করতে চলছে আলোচনা।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, শেখ হসিনার বিমান ও সড়ক দুই পথে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে। এর সঙ্গে কৌশলগত অনেক বিষয় আছে। রয়েছে নিরাপত্তার ব্যাপার।
তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়ার প্রতি শেখ হাসিনার প্রাণের টান রয়েছে। কৌশল ঠিক রেখে নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে তার রুট চূড়ান্ত হবে।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখলে লাখ লাখ নেতাকর্মী রাস্তা নেমে আসবে। কোনো কর্মসূচী প্রয়োজন হবে না। সাধারণ মানুষও তাকে এক নজর দেখতে ছুটে আসবে বলে মনে করেন আব্দুর রহমান।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘নেত্রীর ফেরার সঙ্গে কৌশলগত অনেক বিষয় রয়েছে। সব পরিকল্পনার কথা এখনই প্রকাশ করা যাবে না। রূপরেখা চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হবে ঐতিহাসিক। কবে কখন কোন পথে ফিরবেন তিনি তা ঘোষণা করবেন। সব পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করা যাবে না। শেখ হাসিনা রুট ঘোষণা করলে ছাত্রলীগ তাকে বরণে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবে। এজন্য সারা দেশে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তারা প্রস্তুত হচ্ছে।
দলীয় কয়েকজন নেতার দাবি, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নয়াদিল্লিতে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সামনে শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা বা রুটের বিষয়ে ঘোষণা দিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
দলটির একাধিক নেতা দাবি করেন, এতে তখন থেকে বিশ্বের অনেক মিডিয়ার দৃষ্টি থাকবে তার দিকে। ভূ-রাজনীতির হিসেবে কুটনীতিকরাও খোঁজ রাখবেন। এর মধ্যে অনেক দেশের কুটনীতিকের সাথে শেখ হাসিনা ও তার দলের অনেকের যোগাযোগ চলছে। প্রাক্তন অনেক কুটনীতিক এই যাত্রায় শেখ হাসিনার সঙ্গী হতে পারেন।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা কয়েক হাজার নেতাকর্মী ফিরবেন। এর আগে সবাই ভারতে যেতে পারেন। সবাই নির্দেশের অপেক্ষায় আছে।