বিজ্ঞাপন
নুরের ‘শেখ হাসিনাকে মা’ ডাকার ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খান
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, ‘গণ-অধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার অতীত ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে মা ডাকার বক্তব্যের ফ্রেমে বিচার করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, ‘নুর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।’
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের টকশোতে এসব বলেন রাশেদ খান।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, ‘নুরুল হক নুর একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি সেই পদ থেকে সরে এসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে আসেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।’
রাশেদ খান বলেন, ‘নুরুল হক নুর যে সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছেন, এরপর তিনি কখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কি না, সেটি দেখতে হবে। বরং আওয়ামী লীগকে জালিম দল, মুনাফেক দলসহ বিভিন্ন নামে সমালোচনা করায় নূরকে আদালত পর্যন্ত যেতে হয়েছে।’
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে সমসাময়িক সময়ে সবচেয়ে সাহসী ছাত্র বা তরুণ নেতা কে ছিলেন—এ প্রশ্ন করা হলে আমি অবশ্যই নুরুল হক নুরের নাম বলব। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একমাত্র তরুণ নেতা হিসেবে নুর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পরও নুর বলেছিলেন, শেখ হাসিনা ৯০ শতাংশ পতন হয়ে গেছে, ১০ শতাংশ ধাক্কা দিতে হবে। তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তার এমন ভূমিকার পর তাকে কি অতীতের ছাত্রলীগের রাজনীতি কিংবা শেখ হাসিনাকে মা ডাকার বক্তব্যের ফ্রেমে ফেলা যায়?’
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকলেই কাউকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে ফেলা যায় না। ছাত্রজীবনের শুরুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও পরে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নুর আওয়ামী লীগের বিরোধী অবস্থানে চলে আসেন।’
জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগেরও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বক্তা আমির হামজার বক্তব্যের উদাহরণ দেন।
রাশেদ খান বলেন, ‘আমির হামজা যখন ওয়াজ করতেন, তখন বলতেন, আমার ১৪ গোষ্ঠী আওয়ামী লীগ। এমনকি তিনি বলেছিলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নীতি যিনি বাস্তবায়ন করবেন না, তিনি জাহান্নামে যাবেন।’
জামায়াতের রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, বিএনপি ও জামায়াতকে একইভাবে বিচার করা যায় না। বিএনপি নেতৃত্বের জায়গায় থেকেছে এবং জামায়াতের আদর্শে বিলীন হয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন রাশেদ খান। তার দাবি, বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী দেশে ছিলেন, তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং অনেকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একইভাবে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচিত অনেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘১৬ বছরে তারা কখনো রাজপথে নেমেছেন—এমন কাউকে দেখাতে পারবেন না।’
তবে আলোচনায় উপস্থিত অপর পক্ষ থেকে বলা হয়, জামায়াতের আমিরসহ দলের অনেক নেতাও বিভিন্ন সময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। জবাবে রাশেদ খান বলেন, এ সংখ্যা বিএনপির তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, ‘যাদের আপনি দেখছেন, আমি দেখছি, আমরা চিনি—সেই সংখ্যাটা বিএনপির সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো জামায়াতের ১০ শতাংশ হবে। বিএনপি যদি ১০০ শতাংশ হয়, এর বাইরে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’