বিজ্ঞাপন
গণঅধিকার পরিষদ এখন গণধিকৃত পরিষদ: আমির হামজা
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০০ এএম
বিজ্ঞাপন
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি যাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাংলাদেশে আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না, এটি সন্ত্রাসী দল। গণঅধিকার পরিষদ এখন সন্ত্রাসী দল, গণধিকৃত পরিষদে পরিণত হয়ে গেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির হামজা বলেন, আমি রানিং এমপি, জনপ্রতিনিধির সামনেও গাড়ি পেছনেও গাড়ি। এরপরও যদি আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে আমার ওপর হামলা করার সাহস পায়, আমি বলবো এদের আর সন্ত্রাসী বলতে কোনো বাধা নেই। সুতরাং কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা এই কুষ্টিয়াতে হবে না।
আমির হামজা বলেন, আমরা যতদিন আছি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, তৌহিদী জনতা এই কুষ্টিয়াতে যতদিন আছে, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আমরা করতে দেব না।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করা যাবে না। সে যেই হোক। আপনারা সরকারি লোক, সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন। এই কুষ্টিয়ার ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও যারা সরকারিভাবে দায়িত্বে আছেন জনগণের জন্য যদি কাজ করেন, তাহলে কুষ্টিয়াতে থাকবেন, জনগণের জন্য যদি কাজ না করেন তাহলে আপনাদের বিদায় দিতে বাধ্য হব।
তিনি আরও বলেন, আপনাদেরকে সাবধান করছি এই কুষ্টিয়াতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না। আমার আসনের ভেতরে এটি একটা আলাদা আসন, এখানকার সরকারই আমি। সুতরাং এই জায়গায় কোনো চাঁদাবাজি আমার আসনে চলবে না। কেউ কাউকে চাঁদা দিবেন না, কেউ চাঁদা নিবেন না। যদি কেউ চাইতে আসে বলবেন এমপি সাহেবের কাছে দেওয়া আছে, ওখান থেকে ভাগ নিবেন। কার বাবার বুকের কলিজা এত বড় হয়েছে আমি দেখবো।
এর আগে বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ছয়রাস্তা মোড়ে জড়ো হয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকসহ দলটির বিভিন্ন পযার্য়ের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ, গণআধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার দেওয়া বক্তব্য ঘিরে কুষ্টিয়া ছয়রাস্তার মোড়ে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণধিকার পরিষদ। এসময় আমির হামজার গাড়ি ছয়রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় আমির হামজার গাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় গণধিকার পরিষদের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছে জামায়াত। অন্যদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকেও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে।