Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে

Icon

জাগো বাংলা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে

বিজ্ঞাপন

ভারতের একটি বহুল প্রচলিত নীতি, অতিথি দেব ভব। সেই নীতির ভিত্তিতেই রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তার স্বার্থে আশ্রয় দিয়েছিল নয়াদিল্লি। তখন সেটিকে মানবিক সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করেছিল ভারত সরকার। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর দিল্লির কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশে এখন অন্য প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সেই সিদ্ধান্তই কি এখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ, গত দুই বছরে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি, তার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফিরে এসেছে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ। গঙ্গার পানিবণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কিংবা রাজনৈতিক যোগাযোগ, সব আলোচনার আড়ালেই এই বিষয়টি ছায়া ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভারতের সরকারি অবস্থানে অবশ্য কোনো পরিবর্তন নেই। 

নয়াদিল্লি এখনও বলছে, শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তার কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ভারতে অবস্থান করে তিনি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।  

আরও পড়ুন
কিন্তু দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশের মতে, বাস্তব কূটনীতিতে এই ব্যাখ্যা সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দিচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ভারতকেই বারবার অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছে।

ভারতের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। শুরুতে সেই দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পরে সেই দায়িত্ব গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের হাতে যায়। 

দিল্লির আশা ছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এমন একটি রাজনৈতিক পথ তৈরি হবে, যাতে ভারত একদিকে মানবিক অবস্থান বজায় রাখতে পারবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কও নতুন করে গতি পাবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। 

দিল্লির আরেকটি মূল্যায়ন হলো, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভারতের কিছু পরামর্শ শেখ হাসিনা গ্রহণ করেননি। দলের নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার অনড় অবস্থান দিল্লির একাংশকে হতাশ করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে দিল্লিতে এখন প্রশ্ন উঠছে, মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে অতিথিকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক বাস্তবতা কি এখন ভারতকেই অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলছে। দিল্লির পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার বিষয়টি কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে না গেলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আগের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার