Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

শিশুকে যৌন পীড়নের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

শিশুকে যৌন পীড়নের অভিযোগে জামায়াত নেতা বহিষ্কার

বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর পবায় ৯ বছর বয়সি এক শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওমর ফারুক (৪২) নামে এক নেতাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (২ আগস্ট) রাতে উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সভার সিদ্ধান্তক্রমে ওমর ফারুকের রুকন পদ বাতিল করে তাকে দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়।  

গত ১ আগস্ট রাতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পবা থানা পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে। তিনি এখন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার ওমর ফারুককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩১ জুলাই রাতে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর মা বাদী হয়ে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

জানা গেছে, ওমর ফারুকের বাড়ি পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের বড়গাছি পাকারমাথা গ্রামে। বহিষ্কারের আগে তিনি উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের রুকন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পেশায় একজন গ্রাম্য চিকিৎসক। তার ভাই আবু বকর একই ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। 

মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, জামায়াত নেতা ওমর ফারুক গ্রামের নিজের বাড়িতে ফারুক ফার্মেসি নামের একটা ওষুধের দোকান করেন। পাশাপাশি বাড়ির ভেতরের একটি ঘরে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষাদান করতেন। গত ১২ জুলাই গ্রামের ৯ বছর বয়সি এক শিশুকন্যা ওমর ফারুকের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের জন্য তার বাড়িতে যায়। এ সময় ফারুক অন্য শিশুদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ওই শিশুটিকে যৌনপীড়ন করেন। 

শিশুটি বাড়িতে ফিরলে মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থান দাগ দেখতে পান তার মা। শিশুটির কান্নাকাটি দেখে প্রতিবেশীরাও বাড়িতে ভিড় করেন। পরে শিশুটি তার মাসহ সবার সামনে ওমর ফারুকের যৌন নিপীড়নের ঘটনা খুলে বলে। 

স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ওমর ফারুকের বাড়ি ঘেরাও দিলে তিনি আত্মগোপন করেন। তবে এ সময়ে এলাকার জামায়াতের নেতারা পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ঘটনার ১৯ দিন পার হলেও ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় জামায়াত নেতারা। শেষে ৩১ জুলাই আরএমপির পবা থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির মা। একদিন পরেই পুলিশ ওমর ফারুককে গ্রেফতার করে। 

উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুর রহমান মিলন রোববার রাতে জানান, ওমর ফারুকের অভিযোগের বিষয়ে আমরা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করেছি। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তে ওমর ফারুকের রুকন পদ বাতিল ও তাকে দলের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওমর ফারুকের অপরাধ নৈতিক স্খলনজনিত। জামায়াতের সাংগঠনিক আদর্শের বিপরীতে সংঘটিত এ অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনে হবে।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার