Logo
Logo
×

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি

শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের কমিটি, আলোচনায় যারা

Icon

জাগো বাংলা প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

শিগগিরই আসছে ছাত্রদলের কমিটি, আলোচনায় যারা

বিজ্ঞাপন

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ড ইতোমধ্যে নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে যেকোনো সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র।

সূত্রগুলো বলছে, নতুন কমিটি গঠনে সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সুপার ফাইভ পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে জোর আলোচনা চলছে। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলকে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসির উদ্দীন নাসিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১ মার্চ। নতুন নেতৃত্বে আসতে ছাত্রদলের সম্ভাব্য নেতারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও লবিং-তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে সংগঠনের এই শীর্ষ দুই পদে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। নেতৃত্বের দৌড়ে থাকা পদপ্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে শোডাউন এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় যারা

আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনীতির ছাত্র আফসান এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২০২২ সালের ২৪ মে ছাত্রলীগের হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হন। মাথা ফেটে যাওয়ায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। ২০২৩ সালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে বিএনপি ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। এছাড়াও ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী বিএনপি ঘোষিত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিমে তিনি ছাত্রদলের মূল সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে মহানগর উত্তর ছাত্রদল ও পশ্চিম ছাত্রদল অবরোধ কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া নেতা-কর্মীদের নিয়ে শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে আন্দোলন সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যান। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

আমান উল্লাহ আমান: বর্তমানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগীত বিভাগের ছাত্র আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন আমান।

সালেহ মো. আদনান। তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে উঠে আসা আদনান বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগের কমিটিরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পর ২০১০ সাল থেকে ঢাবি ছাত্রদলের সঙ্গে ঢাকার রাজনীতির যাত্রা শুরু আদনানের। বরগুনা সরকারি কলেজে থাকাকালে ১/১১-এর অবৈধ সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অপরাধে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিরুদ্ধে, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে দলের সিদ্ধান্তে হরতাল, অবরোধসহ সব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে দেশব্যাপী বিভাগীয় সমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশ, রোডমার্চ, ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচিসহ বিএনপির ডাকা সব হরতাল-অবরোধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পল্টন পার্টি অফিসে দলের পক্ষে অবস্থান করেন। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা ও হামলার শিকার হন আদনান।

এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দুইবারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আটটি মামলার আসামি এবং তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন ইজাজুল কবির রুয়েল। তিনি রাজপথের সক্রিয়, ত্যাগী এবং নির্যাতিত ছাত্রনেতা হিসেবে বিভিন্ন মহলে পরিচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাইরের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীও আলোচনায় রয়েছেন। তাঁরা হলেন, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হক মজুমদার শিমুল এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম. রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দু।

ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ফ্যাসিবাদের সময় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয় এবং একবার গ্রেপ্তার হন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের আউয়াল বর্তমানে এফসিপিএস অধ্যয়নরত আছেন।

কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে এবং রিমান্ডে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া দুটি মামলায় সাজাভোগ করেন। কয়েকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধের সময় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাঁকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এছাড়াও সহ-সভাপতি মো. মনজুরুল আলম রিয়াদ, খোরসেদ আলম সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, মোমিনুল ইসলাম জিসান, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফারুক হোসেন আলোচনায় আছেন।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: মহিউদ্দিন সরকার