বিজ্ঞাপন
গাজীপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ এএম
বিজ্ঞাপন
গাজীপুর মহানগরের ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই মিছিলের ভিডিও রোববার (২৬ জুলাই) বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।
ভাইরাল ভিডিওতে বহন করা ব্যানারে লেখা রয়েছে, সুলতান মো. সিরাজুল ইসলাম, সভাপতি, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মো. সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সোহাগ সরকার মিছিলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন ব্যক্তি এসে আকস্মিকভাবে মিছিল করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, যারা এই মিছিলে অংশ নিয়েছে কিংবা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে, তাদের কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় জিএমপির কাছে আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছিল না। জেলা পুলিশের কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য ছিল বলে আমরা জেনেছি। তারা ধারণা করেছিল, মিছিলটি তাদের অধিক্ষেত্রেই অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। এর সুযোগ নিয়ে মিছিলকারীরা জিএমপির অধিক্ষেত্রে প্রবেশ করে মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের একটি ঝটিকা মিছিল করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে প্রচারণার চেষ্টা চালানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। জিএমপি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এ ধরনের নিষিদ্ধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জেলা পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।