বিজ্ঞাপন
সিলেটে জামায়াত জোটের সমাবেশ কাল, মজলিসের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ এএম
বিজ্ঞাপন
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ কয়েক দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাল শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ সমাবেশে শরিক দল খেলাফত মজলিসের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
রংপুর ও রাজশাহীর পর এটিই এই জোটের ধারাবাহিক বিভাগীয় কর্মসূচির শেষ আয়োজন। সমাবেশ থেকে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জোটের পরবর্তী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের এ সমাবেশে শরিক দল খেলাফত মজলিসের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। দলটি ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা না-থাকা নিয়ে আজই ঢাকায় কেন্দ্রীয় শূরা বৈঠক ডেকেছে।
খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ নিশ্চিত করেছেন, আজ ২৫ জুলাই ঢাকায় তাদের দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত আসবে খেলাফত মজলিস জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ১১ দলীয় ঐক্যে থাকবে কিনা। একই দিনে ঢাকায় নীতি-নির্ধারণী বৈঠক থাকায় দলের শীর্ষ ও স্থানীয় কোনো নেতাই সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসার সমাবেশে অংশ নিতে পারছেন না।
জোট ত্যাগের এই স্পষ্ট ইঙ্গিতের নেপথ্যে দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি বিশেষ ইসলামি দল বা একক নেতাকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে গিয়ে অন্যদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। তাছাড়া সাংগঠনিক শক্তিতে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনকালে তাদের আসন বণ্টনে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।
অবশ্য খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, জামায়াতসহ অন্যান্যদের সঙ্গে আমাদের কেবল নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছিল, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন হয়নি। তাই জোটে থাকা বা না থাকার প্রশ্নটি এভাবে আসছে না।
অন্যদিকে সমাবেশ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পুরো সিলেট বিভাগে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও মিছিল চালানো হয়েছে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ও ১১ দলের স্থানীয় সমন্বয়ক মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, খেলাফত মজলিসের অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই এবং তারা জোট ছাড়ছে এমন আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্যও পাইনি। তবে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে লাখো জনতার সমাগম ঘটবে এবং সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দেশব্যাপী আন্দোলনের চূড়ান্ত সমন্বয় ঘটিয়ে এ সমাবেশ থেকেই জোটের রূপরেখা ও আগামীর আন্দোলনের নতুন দিকনির্দেশনা আসবে।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আমজাদুল ইসলাম চানসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও সিলেটের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের।
বিভাগীয় সমাবেশ সফলের আহ্বান
সিলেটে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে নগরের বিভিন্ন স্থানে প্রচার মিছিল ও পথসভা করেছে সিলেট মহানগর জামায়াত। শুক্রবার নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই প্রচার কর্মসূচি পালিত হয়।
বিকালে নগরের জিতু মিয়ার পয়েন্টে কোতোয়ালি পশ্চিম থানা জামায়াতের উদ্যোগে এক প্রচার মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
থানা আমির মু. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি পারভেজ আহমদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী। মিছিলে কোতোয়ালি পশ্চিম থানা এবং বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এদিকে সন্ধ্যায় নগরের কাজীটুলা-জেলরোড পয়েন্টে কোতোয়ালি পূর্ব থানার ১৭ ও ১৮ নাম্বার ওয়ার্ড জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে পৃথক প্রচার মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমির রফিকুল ইসলাম মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহিব আলীর পরিচালনায় মিছিলে কোতোয়ালি পূর্ব থানা, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাসহ স্থানীয় কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।