বিজ্ঞাপন
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পিতা, অথচ জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে!
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০২ এএম
বিজ্ঞাপন
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত একটি বিলে সংসদে আলোচনার সময়। ওই আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনগতভাবে চিহ্নিত করার প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় নিজের বক্তব্যে আব্দুল মুনতাকিম দাবি করেন, তার পরিবারের বহু সদস্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন।
গত ১৪ জুন সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা (বাবা-চাচা) ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।”
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার নির্বাচনী হলফনামা ও অন্যান্য উন্মুক্ত তথ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত সূত্র অনুযায়ী, আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। সংসদে নিজের বক্তব্যের এক পর্যায়েও তিনি ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
এ তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি তার বাবা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়ে থাকেন, তাহলে যুদ্ধের প্রায় এক দশক পরে ১৯৮১ সালে তার জন্ম কীভাবে সম্ভব হলো।
এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তারা সংসদ সদস্যের বক্তব্য ও তার সরকারি নথিতে উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরছেন।
তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম বা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।