বিজ্ঞাপন
বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন আইভী
জাগো বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১২:১২ পিএম
বিজ্ঞাপন
প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। একইসঙ্গে তিনি মানবিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান আইভী। কারামুক্ত হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক।”
কারাগারে থাকা অন্যান্য বন্দিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জেলে আমার মতো অনেক মা রয়েছেন। এর মধ্যে যারা নিরপরাধ, তাদের প্রতি সরকার সদয় হবে বলে আশা করি।”
কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, সন্ধ্যায় পৌঁছানো জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টা ৮ মিনিটে আইভীকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন থানার ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস নং-১৩৪১২/২৬ এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ অনুযায়ী জামিন কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের পাঠানো নথিপত্রে জেলার নয়টি মামলায়ও তার জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো আটকাদেশ না থাকায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর আইভীকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মুক্তির সময় কারাগারের ফটকে তার স্বজন ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি গাড়িতে উঠে চলে যান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন দাবি করেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চাইলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখায় মুক্তির পথ সুগম হয়।
তিনি আরও জানান, আইভী তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ পৃথক ১০ মামলায় গত ১০ মে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। এর আগে আরও দুটি মামলায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট জামিন দেন, যা ১৭ মে চেম্বার আদালত বহাল রাখেন।
এদিকে, দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইভী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ২৬ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে জানতে চান, হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে তাকে বারবার মামলায় জড়ানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।