বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর যুবদলের নতুন কমিটিতে আসছে রাজপথের ত্যাগীরা
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১১:০৬ এএম
ওপরে বাঁ থেকে মিজানুর রহমান রাজ, রবিউল ইসলাম নয়ন, এম এ গাফফার এবং নিচে বাঁ থেকে সাজ্জাদুল মিরাজ, ওমর ফারুক কাওসার ও কামাল আহমেদ দুলু।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় এবার সংগঠন পুনর্গঠনে মাঠের ত্যাগী, আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের নেতাদের মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর যুবদলের দুই ইউনিট পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সামনে এসেছে।
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক করা হয় খন্দকার এনামুল হক এনামকে এবং সদস্য সচিব করা হয় রবিউল ইসলাম নয়নকে। একই সময়ে উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক হন শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সদস্য সচিব হন সাজ্জাদুল মিরাজ।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হোক কিংবা সম্পূর্ণ নতুন কমিটি গঠন করা হোক—সেখানে অবশ্যই আন্দোলনের রাজপথে সক্রিয় ও নির্যাতিত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।
উত্তর যুবদলে নেতৃত্বের দৌড়ে যারা আলোচনায়
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু, মনিরুল ইসলাম স্বপন, তসলিম আহসান মাসুম ও আমিনুল ইসলাম।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন রামপুরা থানা যুবদলের আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুল, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শিকদার রানা, বর্তমান যুগ্ম-আহ্বায়ক শিমুল আহমেদ, মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ উর রহমান লিপকন।
সভাপতি পদপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান রাজ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমি সবসময় রাজপথে সক্রিয় ছিলাম। আন্দোলন করতে গিয়ে আমার ও পরিবারের ওপর বহু নির্যাতন হয়েছে। বহুবার গ্রেপ্তার হয়েছি। তবুও রাজপথ ছাড়িনি। দল আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি।’
বর্তমান সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
দক্ষিণ যুবদলেও ত্যাগী নেতৃত্বের চাহিদা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নতুন কমিটি ঘিরেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ গাফফার, যুগ্ম-আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি ও জবি ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক কাওসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক পাভেল সিকদার।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম-আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ, মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, সাবেক সদস্য সচিব আলামিন হোসেন এবং জবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম।
দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ওমর ফারুক কাওসার বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি আমাকে যেখানে যোগ্য মনে করবেন, সেখানেই দায়িত্ব দেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। উপযুক্ত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।’
নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় যুবদল, শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় যারা
বর্তমান সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘১/১১ থেকে শুরু করে দলের সব সংকটকালীন সময়ে আমি রাজপথে ছিলাম। দল যোগ্য মনে করলে অবশ্যই দায়িত্ব দেবে।’
তৃণমূলের প্রত্যাশা ‘ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব’
নেতাকর্মীরা বলছেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে যারা হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুঃসময়ে সংগঠনকে সচল রেখেছেন, তাদের নিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা, কর্মীবান্ধব এবং বিতর্কমুক্ত নেতাদেরই এবার নেতৃত্বে আনা উচিত।
যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়েই আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ চলছে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে, তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বেড়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই স্থান পাবেন।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা মহানগর যুবদলের নতুন কমিটি শুধু সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস নয়, বরং আগামী দিনের রাজনীতিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি কতটা সুসংহত হবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।