বিজ্ঞাপন
নেতৃত্বে চমক রেখে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি শিগগিরই
জাগো বাংলা প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে জোরালো আলোচনা। বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে দলটির হাইকমান্ড। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এমনটাই প্রত্যাশা পদপ্রত্যাশিদের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনী এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে মহানগর পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে।
কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই এই কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে দলের সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঢাকা উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় য়ারা-
ঢাকা উত্তর বিএনপির সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান ও সদস্য এজিএম শামসুল হক। এছাড়া বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নামও রয়েছে আলোচনায়।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যেখানে দায়িত্ব দিবে তিনি সেখানে কাজ করবেন।
জানতে চাইলে যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, মামলা, হামলা, জেল জুলুমের স্বীকার হয়েছেন তাদেরকে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে দল সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের নতুন কমিটিতে পদায়ন করবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। দল ত্যাগী পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করবে এমনটাই প্রত্যাশা তার।
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপিতে আলোচনায় রয়েছেন যারা-
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি লিটন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক (দপ্তরে নিয়োজিত) সাইদুর রহমান মিন্টু। এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী।
দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের অভিভাবক তিনি যখন মনে করবেন কমিটি দিবেন। আর সাংগঠনিক অভিভাবকের সিদ্ধান্তের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর যারা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন দল তাদেরকে মূল্যায়ন করবে এমনটা প্রত্যাশা করেন দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু।
তিনি বলেন, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলনে যাদের ত্যাগ রয়েছে, জেল-জুলুম-নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এমন নেতাদের দিয়ে কমিটি গঠন করলে দল উপকৃত হবে।